জাপানে বছর শেষের ছুটির আমেজ বিষাদে রূপ নিয়েছে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গুনমা প্রিফেকচারে তুষারপাতের মধ্যে এক্সপ্রেসওয়েতে অর্ধশতাধিক যানবাহনের ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটা এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২৬ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। রোববার জাপানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
জাপানে বর্তমানে ইংরেজি নববর্ষ ও বছর শেষের দীর্ঘ ছুটির মৌসুম চলছে। এই সময়ে পর্যটন ও নিজ বাড়ি ফেরার টানে মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকে। দুর্ঘটনার বর্ণনায় গুনমা প্রিফেকচার হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মিনাকামি শহরের ‘কান-এৎসু এক্সপ্রেসওয়ে’তে এই বিপর্যয় ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে দুটি বিশালাকার ট্রাকের সংঘর্ষের মাধ্যমেই এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। তুষারে ঢাকা পিচ্ছিল রাস্তায় ট্রাক দুটির সংঘর্ষের পর পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা অন্যান্য যানবাহনগুলো সময়মতো ব্রেক করতে ব্যর্থ হয়ে একের পর এক আছড়ে পড়তে থাকে।
ভয়াবহ এই চেইন কলিশনে অন্তত ৫০টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। নিহত ব্যক্তি টোকিওর বাসিন্দা ৭৭ বছর বয়সী এক নারী বলে শনাক্ত করা হয়েছে। আহত ২৬ জনের মধ্যে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন, যাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দেয় সংঘর্ষের পরপরই ছড়িয়ে পড়া আগুন। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এক্সপ্রেসওয়ের দুর্ঘটনাস্থলের এক প্রান্তে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং তা দ্রুত এক ডজনেরও বেশি যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি গাড়ি আগুনে পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রায় সাত ঘণ্টার প্রাণপণ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে সৌভাগ্যবশত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে কেউ হতাহত হননি।
জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর শুক্রবার গভীর রাতেই গুনমা প্রিফেকচারসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় ভারী তুষারপাতের বিষয়ে আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। ভারী তুষারপাতের কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যাওয়াই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাসড়ক পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়া এবং রাস্তা পরিষ্কারের কাজের জন্য এক্সপ্রেসওয়ের সংশ্লিষ্ট অংশটি দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা হয়। বছরের শেষ সময়ে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা দেশটির নাগরিকদের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।

