জুলাই বিপ্লবের অন্যতম লড়াকু সৈনিক এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ মোড়। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ছাত্র-জনতা শাহবাগ মোড়ে ‘শহীদ হাদি চত্বরে’ অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টি দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যা রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ মোড়ে এসে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের তখন ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, হাদি হত্যার প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে শত শত আন্দোলনকারী শুক্রবার দিবাগত রাত পুরোটা শাহবাগ চত্বরেই অতিবাহিত করেন।
উল্লেখ্য, আজ শনিবার সকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা ছিল। তাঁর যাতায়াত এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা সাময়িকভাবে শাহবাগ মোড় থেকে সরে গিয়ে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে তারেক রহমানের জিয়ারত শেষে এলাকা ত্যাগের পরপরই, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা পুনরায় শাহবাগ মোড়ের মূল পয়েন্টে ফিরে আসেন এবং চারদিকের রাস্তা অবরোধ করেন।
আন্দোলনস্থল থেকে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান উঠছে—”হাদির রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “খুনিদের ফাঁসি চাই, বিচার চাই”। ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ দাবি করছেন, হাদিকে হত্যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং বিপ্লবের কণ্ঠরোধ করতেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ এবং দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস আসবে, ততক্ষণ শাহবাগ মোড়ে এই অবস্থান কর্মসূচি এবং অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
শাহবাগে এই পরিস্থিতির কারণে যানবাহনগুলো বিকল্প রাস্তা হিসেবে সায়েন্স ল্যাব ও মগবাজার এলাকা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, ফলে আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শাহবাগ থানার সামনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কাজ করছেন।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির এই বিয়োগান্তক ঘটনা এবং তার পরবর্তী এই গণআন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মোড় সৃষ্টি করেছে। বিচারের দাবিতে অনড় ইনকিলাব মঞ্চের এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় মিছিলে যোগ দিচ্ছেন।

