বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমণি সমসাময়িক বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে নিজের সোজাসাপ্টা মতামতের জন্য বরাবরই আলোচিত। এবার দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এক আবেগঘন ও স্বপ্নদর্শী বক্তব্যে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই ঢালিউড তারকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার করা একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট ঘিরে এখন নেটিজেনদের মাঝে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পরীমণি লেখেন, “‘আজ এ দেশের মানুষ চায়…’ যখন বললেন, একদম শিরদাঁড়ায় এসে বিঁধলো। কী যে এক মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে! শান্তি নেমে আসুক সবার জীবনে, আর কিছু চাওয়ার নেই।”
নায়িকার এই রহস্যময় অথচ ইতিবাচক বার্তার পরপরই মন্তব্যের ঘরে নেটিজেনদের ভিড় জমে। অধিকাংশ অনুসারীর ধারণা, দীর্ঘ ১৭ বছর পর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করা তারেক রহমানের বক্তব্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ পরীমণিকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বিশেষ করে তারেক রহমান যখন নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জনগণের অধিকারের কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই পরীমণি এই প্রতিক্রিয়াটি ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার দেশে ফেরার পর এক বিশাল সমাবেশে তারেক রহমান দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক দীর্ঘ ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। মার্কিন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বিখ্যাত উক্তির আদলে তিনি ঘোষণা করেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান” (আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।
তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “আজ বাংলাদেশের মানুষ তাদের কথা বলার অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। তারা চায় যোগ্যতা অনুযায়ী নিজেদের ন্যায্য অধিকার।” দেশের ৪ কোটি তরুণ এবং বিশাল নারী ও শ্রমিক গোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে তার এই সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা শুনে অনেকেই আশান্বিত হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, নেতার এই বলিষ্ঠ ও সময়োপযোগী আহ্বানই পরীমণির মতো তারকাদের মনে দাগ কেটেছে।
পরীমণির এই পোস্ট প্রকাশের পর নেট দুনিয়ায় দুই ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তার ভক্তদের একটি বড় অংশ তাকে সাহসী ও সময়ের সাহসী সন্তান হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তারা মনে করছেন, একজন শিল্পী হিসেবে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানানো ইতিবাচক পদক্ষেপ। অন্যদিকে, সমালোচকদের কেউ কেউ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখার চেষ্টা করছেন।
তবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে পরীমণি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি কেবল সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তির প্রত্যাশা করেন। দেশে চলমান উৎসবের আমেজ এবং তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের দিনে তার এই অবস্থান বিনোদন ও রাজনীতি—উভয় অঙ্গনেই বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে বিনোদন অঙ্গনের অনেক তারকাই সামাজিক মাধ্যমে নানা বার্তা ও শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে পরীমণির মতো স্পষ্টভাষী তারকার পক্ষ থেকে এমন আবেগপূর্ণ মন্তব্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। দেশীয় চলচ্চিত্রের এই শীর্ষ নায়িকা সবসময়ই মানুষের সংবেদনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, এবং আজ তার সেই বার্তায় রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে এক শান্তিময় বাংলাদেশের প্রতিফলন দেখা গেছে।
বর্তমানে ঢাকাই চলচ্চিত্রের এই শীর্ষ নায়িকার পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরাও সমানভাবে সম্পৃক্ত ও সচেতন।

