দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে আয়োজিত গণসংবর্ধনা সভায় আগামী জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর সংবর্ধনা মঞ্চের সন্নিকটে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের গগনবিদারী স্লোগানের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল এই বক্তব্য দেন। তিনি বিগত আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা ফ্যাসিবাদী শক্তির বিদায় ঘটিয়েছি। আমরা একটি অত্যন্ত কঠিন ও বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছি। ইনশাআল্লাহ, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই আমরা আবারও জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে জয়ী হবো।”
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন কেবল বিএনপির জন্য নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রকামী প্রতিটি মানুষের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, “আমাদের নেতা আজ আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। এখন থেকে আমাদের লক্ষ্য কেবল একটিই—একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।”
উল্লেখ্য যে, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে নির্বাচনী আমেজ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সংবর্ধনা মঞ্চে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং সমমনা দলগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান মঞ্চে আরোহণ করার পর মির্জা ফখরুল তাঁকে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেন। এরপর তারেক রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ ভাষণ শুরু করেন। মির্জা ফখরুলের এই নির্বাচনী ঘোষণা এবং তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা আজকের এই গণসংবর্ধনাকে একটি রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্টে পরিণত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

