দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে অবশেষে আজ মাতৃভূমিতে ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই রাজসিক প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার প্রতিটি প্রান্ত এখন উৎসবমুখর। বিশেষ করে তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবন (১৯৬ নম্বর বাড়ি) এবং এর আশপাশের এলাকাগুলোতে সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষায় দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার মানুষ গুলশান-২ এলাকার প্রধান সড়ক ও গলিপথগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গুলশান এলাকাটি ব্যানার, ফেস্টুন আর দলীয় পতাকায় ছেয়ে গেছে। নেতাকর্মীদের গগণবিদারী স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম বাড়তে থাকে এবং গুলশান-২ নম্বর মোড় থেকে শুরু করে তার বাসভবন পর্যন্ত দীর্ঘ এক জনস্রোত তৈরি হয়।
হাতে প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা নিয়ে আসা কর্মীরা তাদের দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষিত নেতার আগমনের ক্ষণ গুনছেন। অনেককে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আবেগঘন কণ্ঠে স্লোগান দিতে এবং একে অপরকে মিষ্টি মুখ করাতে দেখা গেছে।
তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটটি (বিজি-২০২) আজ সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করে। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সেটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরে নামার পর তিনি দলীয় নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সেখানে এক আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। এরপর ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি ৩-৪ শ ফিট এলাকায় আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তার সরাসরি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করবেন।
গুলশানের এই বাসভবনটি জিয়া পরিবারের জন্য কেবল একটি আবাসস্থল নয়, বরং এটি অনেক রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর এই বাড়িতে তারেক রহমান সপরিবারে ফিরে আসছেন—এই আবেগ নেতাকর্মীদের মাঝে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।
শ্যামলী থেকে আসা এক বিএনপি নেতা জানান, “আমাদের নেতা দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরছেন, এটি আমাদের কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। তাকে একনজর দেখতে না পারলে আমাদের আসা সার্থক হবে না।” তৃণমূলের কর্মীদের এই উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে যে, তারেক রহমানের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও আনুগত্য কতটা গভীর।
গুলশান এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি বিএনপির নিজস্ব সিকিউরিটি টিমের সদস্যরাও বিশৃঙ্খলা এড়াতে কাজ করছেন। গুলশান-২ এর বিভিন্ন মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে যাতে নেতাকর্মীদের ভিড়ে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে। এলাকাবাসী জানান, গুলশানে এর আগে কখনো এমন গণজোয়ার দেখা যায়নি।
তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফিরেছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিট হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে বিকেলের দিকে তারা গুলশানের বাড়িতে পৌঁছাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের এই ফিরে আসা কেবল একটি পরিবারের মিলন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। আজ রাত থেকেই গুলশানের এই বাড়িতে তারেক রহমান তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সময় কাটাবেন এবং আগামী দিনের কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন।

