দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশে ফিরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে এখন সাজ সাজ রব।
বুধবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে তিনি সপরিবারে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৬টা ১৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘বিজি-২০২’ ড্রিমলাইনার ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা রয়েছে।
লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, তারেক রহমানের সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় ১৭ বছর আগে ২০০৮ সালে এক বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশ ছেড়েছিলেন তারেক রহমান। দীর্ঘ এই নির্বাসনকালে তিনি লন্ডনেই অবস্থান করছিলেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন।
বুধবার বিকেলেই তিনি হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং প্রয়োজনীয় চেক-ইন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। বিমানবন্দরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তারেক রহমানের জন্য বিজনেস ক্লাসে টিকিট নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তার সঙ্গে আরও পাঁচজন নিকটাত্মীয় ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ফেরা নয়, বরং বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা চলাকালে কারাবরণ এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমানোর পর এই প্রথম তিনি দেশে পা রাখছেন।
তার এই ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী একই ফ্লাইটে তার সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরছেন বলে জানা গেছে।
সফরসঙ্গীদের তালিকায় ডা. জোবাইদা রহমান ও ব্যারিস্টার জাইমা রহমান ছাড়াও রয়েছেন তারেক রহমানের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান আবু আবদুল্লাহ সালেহ এবং ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রহমান সানি। এ ছাড়া তাবাসসুম ফারহানা নামে আরও একজন সফরসঙ্গী এই বহরে যুক্ত রয়েছেন। ব্রিটিশ পাউন্ডে এই ফ্লাইটের মোট টিকিটের মূল্য প্রায় ১০ হাজার পাউন্ডের কাছাকাছি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ লাখ টাকা বলে একটি বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে বাংলাদেশের হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। বিএনপি দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে তাকে বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। অবতরণের পর তিনি সরাসরি ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত একটি গণসংবর্ধনা সভায় যোগ দেবেন।
এরপর তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। দীর্ঘ বছর পর মা ও ছেলের এই মিলন মুহূর্তটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে এবং আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
দীর্ঘ নির্বাসনকাল শেষে তার এই ফেরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে কেমন ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তারেক রহমানের এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লাখ লাখ নেতাকর্মী ঢাকায় জড়ো হতে শুরু করেছেন, যা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তার জনপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা এখনো অটুট রয়েছে।

