দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে কাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রিয় স্বদেশে পা রাখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁকে বরণ করে নিতে রাজধানীর পূর্বাচল সংলগ্ন ‘জুলাই-৩৬’ সড়কের (৩০০ ফিট) উত্তর অংশে গড়ে তোলা হয়েছে এক বিশাল ও রাজকীয় সংবর্ধনা মঞ্চ। দেশজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ; ইতোমধ্যে লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজধানীমুখী হয়েছেন এবং অনেকেই সংবর্ধনাস্থলে অবস্থান নিয়েছেন।
আগমনের সময়সূচী ও রুট: তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে আজ বুধবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং তাঁদের প্রিয় পোষা বিড়াল ‘জেবু’।
অবতরণ: বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যাত্রাবিরতি: ঢাকা পৌঁছানোর আগে বিমানটি সিলেটে এক ঘণ্টার যাত্রা বিরতি করবে। সংবর্ধনা: বিমানবন্দর থেকে সর্বোচ্চ প্রটোকলে তিনি সরাসরি ৩০০ ফিট এলাকায় তৈরি করা মঞ্চে পৌঁছাবেন। মঞ্চ ও সংবর্ধনার প্রস্তুতি: বিশ্বরোড মোড় থেকে পূর্বাচলগামী সড়কে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের এক বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে।
ডিজিটাল ছোঁয়া: মঞ্চে বসানো হয়েছে বিশাল এলইডি স্ক্রিন, যেখানে জাতীয় পতাকার আদলে ‘তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন’ বার্তাটি শোভা পাচ্ছে। নিরাপত্তা: তারেক রহমানের নিজস্ব সিকিউরিটি টিমের পাশাপাশি পুরো এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সেনাবাহিনীর একাধিক টিম নিয়মিত এলাকা টহল দিচ্ছে।
সাজসজ্জা: সড়কের দুই পাশে কয়েক হাজার মাইক লাগানো হয়েছে। গাছ রক্ষা ও পরিবেশের কথা মাথায় রেখে ব্যানার টাঙানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস: পুরো ৩০০ ফিট এলাকা এখন যেন এক জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। দিনাজপুর, কক্সবাজার, জামালপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার নেতাকর্মী ফুটপাতে ব্যানার-ত্রিপল বিছিয়ে রাত কাটাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের মধ্যে কেউ ধানের শীষের আদলে পোশাক পরেছেন, কেউ মাথায় ধানের শীষের মাথাল পরে নেচে-গেয়ে পরিবেশ মাতিয়ে রাখছেন। উৎসবের এই আবহকে কেন্দ্র করে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান ও বিভিন্ন দলীয় সামগ্রী বিক্রির মেলা জমে উঠেছে।
যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের উপস্থিতি: তারেক রহমানকে বরণ করতে বিএনপির পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজপথের সঙ্গী গণতন্ত্র মঞ্চসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংবর্ধনা মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন। তবে মঞ্চে শুধুমাত্র তারেক রহমানই ভাষণ দেবেন।
পরবর্তী কর্মসূচি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবর্ধনা শেষে তারেক রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাঁর অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। এরপর তিনি গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯শে (বাসভবন) উঠবেন।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর): শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর): জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও ভোটার হওয়ার কাজ সম্পন্ন করবেন। এরপর ঢাবিতে শরীফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত ও পঙ্গু হাসপাতালে আহত বিপ্লবীদের দেখতে যাবেন।
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাদের ধারণা, এই সংবর্ধনায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে, যা হবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় সমাবেশ।

