প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.১। আকস্মিক এই ভূকম্পনে রাজধানী তাইপেইসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে উঠলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেলে এই কম্পন অনুভূত হয়। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির মাত্র ১১.৯ কিলোমিটার গভীরে। স্বল্প গভীরতায় এই কম্পন হওয়ায় রাজধানী তাইপেইয়ের সুউচ্চ ভবনগুলোতে তীব্র ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কম্পনের সময় আতঙ্কে অনেক মানুষ ভবন থেকে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসেন। তবে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর জনজীবন দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
তাইওয়ানের ন্যাশনাল ফায়ার এজেন্সি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদগুলো থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিপর্যয়ের সংবাদ পাওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী দলগুলো সতর্ক অবস্থানে থাকলেও এখন পর্যন্ত জরুরি কোনো অভিযানের প্রয়োজন পড়েনি।
বিশ্বের সর্ববৃহৎ চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের কারখানাগুলোতে শক্তিশালী সেন্সর থাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হয়। তবে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায়নি যে কর্মীদের কারখানা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। উল্লেখ্য, তাইওয়ানের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এই টেক জায়ান্টের কারখানাগুলো দেশটির অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তাইওয়ান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ একটি অঞ্চল। এটি মূলত দুটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এখানে নিয়মিত ছোট-বড় ভূকম্পন অনুভূত হয়। এর আগে ২০১৬ সালে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। তবে তাইওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে স্মরণীয় ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্প ছিল ১৯৯৯ সালের সেই মহাপ্রলয়, যাতে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নত ভূমিকম্প নিরোধক নির্মাণশৈলী এবং আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির কারণে আজকের শক্তিশালী ভূমিকম্পেও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে সম্ভাব্য আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

