দীর্ঘ ১৭ বছর পর নিজ মাতৃভূমিতে পা রাখতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার এই বহু প্রতীক্ষিত প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হলেও, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে তার দল।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামীকালকের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি বক্তব্য দেবেন না। মূলত সময় সাশ্রয় এবং জনদুর্ভোগ লাঘব করতেই এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “তারেক রহমান সবসময়ই জনমুখী রাজনীতির কথা বলেন। তিনি এমন কোনো কর্মসূচিকে সমর্থন করেন না যা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। সেই দর্শনের প্রতিফলন হিসেবেই আমরা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কোনো বড় সমাবেশের আয়োজন করিনি।
এর পরিবর্তে বিমানবন্দরের সন্নিকটে ‘৩৬ জুলাই মহাসড়ক’ (যা পূর্বে ৩০০ ফিট সড়ক নামে পরিচিত ছিল) এর সার্ভিস লেনে একটি সংক্ষিপ্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আয়োজনে তারেক রহমান কেবল দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও জাতির মঙ্গল কামনায় দোয়া করবেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে জমায়েত না হওয়ার জন্য নেতাকর্মীদের অনুরোধ করেছিলেন। বাংলাদেশেও সেই শৃঙ্খলার ধারা বজায় রাখতে বিএনপি বদ্ধপরিকর। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে স্মরণীয় করতে এমন একটি দিন বেছে নেওয়া হয়েছে, যা টানা ৩ দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে পড়ে। এর ফলে সড়কে যানজট ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশেই কম হবে বলে আশা করছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, আগামীকাল বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। এরপর বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি সরাসরি ৩৬ জুলাই মহাসড়কের সংবর্ধনা মঞ্চে যোগ দেবেন।
সেখানে সংক্ষিপ্ত উপস্থিতির পর তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার অসুস্থ মা বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন। সেখান থেকে বনানী কবরস্থানে তার বাবা ও ছোট ভাইয়ের কবর জিয়ারত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা রাজধানীর একপাশে অনুষ্ঠানটি করছি যাতে মূল শহর স্থবির হয়ে না পড়ে। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত এই প্রশস্ত মহাসড়কটি ব্যবহার করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২৭ ডিসেম্বর (শনিবার) তারেক রহমান ভোটার হওয়ার জন্য নিবন্ধন করবেন এবং একই দিনে পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে যাবেন।
তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে উদ্ভূত যেকোনো সাময়িক অসুবিধার জন্য রাজধানীবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সুশৃঙ্খল থেকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনুরোধ জানান। বিএনপির এই শীর্ষ নেতার মতে, তারেক রহমানের এই ফেরা কেবল একটি দলের নেতার প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন এক যাত্রার সূচনা।

