দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে স্বদেশের মাটিতে পা রাখছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য থেকে তার দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশে ফেরার পর তিনি নিজ দেশের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করবেন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে পৌঁছানোর পর কিছুটা সময় বিশ্রাম নেবেন এবং শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোটার হওয়ার জন্য যাবতীয় আইনি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করবেন। তার এই দেশে ফেরা এবং ভোটার হওয়ার সিদ্ধান্তকে দেশের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণ করবেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আইনি পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি ভোটার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছেন।
সোমবার বিকেলে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়। সালাউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জাকারিয়া।
বৈঠকে সিইসি ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই বৈঠকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে সারা দেশের বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই তার রাজকীয় সংবর্ধনা আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং প্রশাসন থেকেও প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার ধরন বদলে দেবে। বিশেষ করে তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তার নির্বাচনি আসন এবং দলের প্রচার কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার আবেদন করার পর নিয়ম অনুযায়ী তার স্থায়ী ঠিকানা বা বর্তমান ঠিকানার অনুকূলে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। তারেক রহমান ভোটার হওয়ার পর আসন্ন নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের পথে আর কোনো আইনি বাধা থাকবে না বলে মনে করছেন তার আইনজীবীরা। দেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার এভাবে সরাসরি নির্বাচনি লড়াইয়ে ফিরে আসা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

