আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের এই দলে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে তরুণ তারকা শুভমান গিলের অনুপস্থিতি। তিন ফরম্যাটেই ভারতের অন্যতম প্রধান ব্যাটার এবং ভবিষ্যতের অধিনায়ক হিসেবে বিবেচিত হওয়া সত্ত্বেও গিলের বাদ পড়া নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা। শনিবার দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব গিলের বাদ পড়ার নেপথ্য কারণ স্পষ্ট করেছেন।
নির্বাচকদের মতে, গিলের ফর্মের চেয়েও ‘টিম কম্বিনেশন’ বা দলীয় ভারসাম্যের প্রয়োজনে তাকে এই আসরের জন্য বিবেচনা করা সম্ভব হয়নি। ভারত মূলত টপ অর্ডারে একজন বিধ্বংসী উইকেটরক্ষক ব্যাটার খুঁজছিল, যার কারণে শুভমান গিলের জায়গায় দলে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটার ইশান কিষাণ। গত ২০২৪ আসরেও ভারত যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, তখনও একই কারণে রিজার্ভ তালিকায় থাকলেও মূল দলে জায়গা পাননি গিল।
প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকার এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় বলেন, “শুভমান গিল কতটা প্রতিভাবান ক্রিকেটার, তা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই। তবে একটি ১৫ জনের স্কোয়াড সাজানোর সময় দলের ভারসাম্য সবচেয়ে আগে দেখতে হয়। আমাদের টপ অর্ডারে এমন একজন উইকেটরক্ষক প্রয়োজন ছিল যে পাওয়ার-প্লে’তে দ্রুত রান তুলতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত, দলের এই কম্বিনেশন মেলাতে গিয়েই গিলকে বাদ দিতে হয়েছে।”
আগারকার আরও জানান, ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ে ইশান কিষাণের বিধ্বংসী পারফরম্যান্স তাকে দলে ফেরাতে বাধ্য করেছে। ইশান সম্প্রতি সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে ঝাড়খণ্ডকে শিরোপা জেতানোর পথে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৫১৭ রান করেছেন, যেখানে তাঁর স্ট্রাইকরেট ছিল ১৯৭.৩২। গিলের পরিবর্তে টপ অর্ডারে একজন বাঁহাতি উইকেটরক্ষক ব্যাটারের উপস্থিতি ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করেন নির্বাচকরা।
একই সুরে কথা বলেছেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও। তিনি বলেন, “গিলের ফর্ম নিয়ে আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। কিন্তু আমাদের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে রিংকু সিং ও ওয়াশিংটন সুন্দরের মতো ফিনিশাররা রয়েছে। তাই ওপরের দিকে ইশানের মতো একজন আক্রমণাত্মক কিপার-ব্যাটার আমাদের পরিকল্পনার জন্য অপরিহার্য ছিল। গিলের মতো ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া সবসময়ই কঠিন সিদ্ধান্ত, তবে দলের বৃহত্তর স্বার্থে এটি করতে হয়েছে।”
ঘোষিত এই স্কোয়াডে সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়ক এবং অলরাউন্ডার অক্ষর প্যাটেলকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলে প্রত্যাশিতভাবেই ফিরেছেন রিংকু সিং এবং স্পিন বিভাগে জাদেজা-অক্ষর জুটির ওপর ভরসা রেখেছে বিসিসিআই। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা ইভেন্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করেছেন সূর্যকুমার। ফর্মহীনতা নিয়ে চলা সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি সমর্থকদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশ্বকাপের মঞ্চে দর্শকরা আবারও চেনা ছন্দের সূর্যকুমারকে দেখতে পাবেন।
গিলের মতো তারকাকে ছাড়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত ঘরের মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। গিলের বাদ পড়া ভারতের আক্রমণাত্মক ক্রিকেট দর্শনেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

