জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় সেনানি ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির প্রয়াণে স্তব্ধ পুরো দেশ। কবির চত্বরে যখন এই তরুণ বিপ্লবীর দাফন সম্পন্ন হচ্ছিল, তখন কেবল রাজনীতিক বা সাধারণ ছাত্র-জনতাই নয়, শোকে মুহ্যমান ছিলেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গও। শনিবার বিকেলে শহীদ হাদিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি অত্যন্ত আবেগঘন ও শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদ। তাঁর সেই পোস্টে উঠে এসেছে হাদির ত্যাগ, আদর্শ এবং রাজনীতির এক প্রকৃত সংজ্ঞার কথা।
শনিবার বিকেলে হাদির দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ইরফান সাজ্জাদ লেখেন, “আপনি জিতে গেছেন হাদি। বলেছিলেন সংসদ নির্বাচনে ৫০০ ভোটও যদি পান, তাহলে সেটাই আলহামদুলিল্লাহ। আর আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ আপনাকে নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে।” ইরফানের এই মন্তব্য মূলত হাদির সেই বিনয়ী লক্ষ্যের প্রতি ইঙ্গিত করে, যেখানে হাদি কেবল মানুষের ভালোবাসা ও সত্যের পক্ষে থাকতে চেয়েছিলেন। আজ তাঁর শেষ বিদায়ে রাজধানীর রাজপথ যেভাবে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে, তাকেই প্রকৃত বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন এই অভিনেতা।
ইরফান সাজ্জাদ প্রচলিত রাজনীতির ধারার ওপর প্রশ্ন তুলে আরও লেখেন, “বছরের পর বছর রাজনীতি করা কোনো রাজনীতিবিদ কি আজ বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন—আপনি মরে গেলে এর ধারে কাছে মানুষ আপনার জানাজায় আসবে বা আপনাকে মনে রাখবে?” তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে হাদির গ্রহণযোগ্যতা এবং মানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থানের গভীরতা ফুটে উঠেছে। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পদ-পদবি নয়, মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসাই একজন নেতার প্রকৃত প্রাপ্তি।
রাজনীতি যে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয় বরং দেশ ও মানুষের কল্যাণের ব্রত, হাদি তা প্রমাণ করে গেছেন বলে মন্তব্য করেন ইরফান। তিনি তাঁর পোস্টের শেষে হাদির আদর্শকে সম্মান জানিয়ে লেখেন, “আবার বলি, আপনি জিতে গেছেন হাদি। দেশকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। আল্লাহ আপনাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুক।” অভিনেতার এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ সেখানে হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মন্তব্য করেন।
শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের কারিগর এবং ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর নির্বাচন করার ঘোষণা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আশার আলো জাগিয়েছিল। কিন্তু গত ১২ ডিসেম্বরের নৃশংস হামলা সেই পথচলাকে থামিয়ে দিলেও, ইরফান সাজ্জাদের মতো সাংস্কৃতিক কর্মীদের এমন বার্তা প্রমাণ করে যে, হাদি হেরে যাননি বরং এক অবিনাশী আদর্শ হয়ে এ দেশের মানুষের হৃদয়ে জয়ী হয়েছেন।

