জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনার একটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে ২০২৬ সালের নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের অনুরোধ করেছেন তিনি।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের পক্ষে এই নিন্দা ও সমবেদনা বার্তা পৌঁছে দেন তার মুখপাত্র স্টেফানে দুজারিক। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি। দুজারিক আরও বলেন, “মহাসচিব শরীফ ওসমান হাদির পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। একই সাথে তিনি বাংলাদেশে বিরাজমান উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।”
গুতেরেসের পাশাপাশি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক এক পৃথক বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। জেনেভা থেকে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, “শরীফ ওসমান হাদির মতো একজন উদীয়মান নেতার মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং উদ্বেগজনক। প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি কেবল বিভাজন বাড়াবে এবং নাগরিক অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান তার বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন যে, হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষায় সরকারকে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। ভলকার তুর্ক স্পষ্ট করে বলেন, একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
বিবৃতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে জাতিসংঘ জানায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে সাধারণ মানুষের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ সরকার ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। বৈশ্বিক এই সংস্থাটি মনে করে, শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা গেলে তা দেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং জনগণের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় এক সন্ত্রাসী হামলায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার হাদি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই শাহাদাত কেবল জাতীয় পর্যায়েই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও রাজনৈতিক মহলেও গভীর রেখাপাত করেছে। জাতিসংঘের এই সময়োপযোগী প্রতিক্রিয়া হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

