মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের (MCU) বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগনিত ভক্তদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এসেছে এক মাহেন্দ্রক্ষণ। জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আবারও পর্দার জনপ্রিয় চরিত্র ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’ হিসেবে ফিরে আসছেন ক্রিস ইভান্স।
আসন্ন ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’-তে স্টিভ রজার্স চরিত্রে তার প্রত্যাবর্তন এখন বিনোদন বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত সংবাদ। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির প্রথম টিজার ট্রেইলারে ক্রিস ইভান্সের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ভক্তদের মাঝে অভাবনীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে।
মার্ভেল স্টুডিওস কর্তৃক প্রকাশিত সংক্ষিপ্ত সেই টিজারটি শুরু হয় অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে। সেখানে দেখা যায়, একটি শান্ত ও নির্জন বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসছেন স্টিভ রজার্স। ব্যাকগ্রাউন্ডে তখন বাজছিল অ্যাভেঞ্জার্সের সেই আইকনিক থিম মিউজিক, যা দর্শকদের মুহূর্তেই আবেগপ্রবণ করে তোলে।
ভিডিওর এক পর্যায়ে দেখা যায়, স্টিভ তার সেই চিরচেনা পুরনো সুপারহিরো স্যুটটি পরম মমতায় নেড়েচেড়ে দেখছেন। তবে টিজারটির সবচেয়ে বড় চমক ছিল এর শেষ দৃশ্যটি। সেখানে স্টিভ রজার্সকে একজন নবজাতক শিশুর বাবার ভূমিকায় দেখা যায়। কোলে থাকা সেই শিশুকে আগলে রাখা অবস্থাতেই স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে আসে এবং বড় বড় অক্ষরে ফুটে ওঠে— ‘স্টিভ রজার্স ইজ রিটার্নিং ইন অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’।
২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ সিনেমার পর থেকেই স্টিভ রজার্সের পরিণতি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে এক ধরনের বিষণ্ণতা কাজ করছিল। সেই সিনেমায় দেখা গিয়েছিল, স্টিভ রজার্স সমস্ত ‘ইনফিনিটি স্টোন’ নির্দিষ্ট সময়ে ফিরিয়ে দিয়ে তার ফেলে আসা অতীত জীবনে ফিরে যান।
সেখানে তার আজীবনের ভালোবাসা পেগি কার্টারের সাথে সংসার জীবন অতিবাহিত করে বার্ধক্যে উপনীত হন। পরবর্তীতে বৃদ্ধ স্টিভ রজার্স তার আইকনিক ঢালটি স্যাম উইলসনের (অ্যান্থনি ম্যাকি) হাতে তুলে দিয়ে নিজের বীরত্বগাথার ইতি টেনেছিলেন। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর তাকে আর মার্ভেলের মূল পর্দায় দেখা যায়নি।
তবে নতুন টিজারটি দেখার পর দর্শকদের মনে এখন হাজারো প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। টিজারে দেখা যাওয়া এই স্টিভ রজার্স কি সেই চিরচেনা আসল স্টিভ, নাকি মার্ভেলের বর্তমান ধারার ‘মাল্টিভার্স’ বা অন্য কোনো সমান্তরাল মহাবিশ্বের কোনো বিকল্প চরিত্র?
এছাড়া তার কোলে থাকা নবজাতক শিশুটির পরিচয় নিয়েও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তরা ধারণা করছেন, এই শিশুটির শরীরে হয়তো জন্মগতভাবেই ‘সুপার সোলজার’ সিরামের ক্ষমতা বা বিশেষ কোনো শক্তি থাকতে পারে, যা আগামী দিনের মার্ভেল কাহিনীতে বড় প্রভাব ফেলবে।
সিনেমার মুক্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ ২০২৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এই সিনেমাটি নিয়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে থাকার আরও একটি বড় কারণ হলো রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের প্রত্যাবর্তন।
তবে তিনি তার চিরচেনা ‘আয়রন ম্যান’ চরিত্রে নয়, বরং এবার হাজির হবেন অন্যতম শক্তিশালী খলনায়ক ‘ডক্টর ডুম’ হিসেবে। ক্রিস ইভান্স ও রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের মতো তারকাদের পুনরায় স্ক্রিন শেয়ার করার বিষয়টি দর্শকদের জন্য এক বিরল অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ হতে যাচ্ছে মার্ভেলের ইতিহাসে অন্যতম এক মোড় ঘোরানো অধ্যায়। স্টিভ রজার্সের বাবা হওয়ার রহস্য এবং নতুন প্রেক্ষাপটে তার ফিরে আসা—সব মিলিয়ে মার্ভেল স্টুডিওস আবারও তাদের হারানো জৌলুস পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। এখন দেখার বিষয়, ক্যাপ্টেনের সেই পুরনো সাহস আর নীতি কি আবারও পৃথিবীকে আসন্ন ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে কিনা।

