ঢাকাই চলচ্চিত্রের দাপুটে অভিনেতা ও প্রযোজক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বিরুদ্ধে আনা অ্যাসিড নিক্ষেপ ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়নি পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে যে প্রতিবেদন দাখিল করেছে, তাতে এই অভিনেতাকে নির্দোষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ডিপজল। তিনি এই সিদ্ধান্তকে সত্যের জয় হিসেবে অভিহিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ডিপজল লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ, এভাবেই এখন পর্যন্ত হওয়া সব মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার অবসান হবে। আমার পূর্ণ বিশ্বাস, দেশের আদালত ন্যায়বিচারের মাধ্যমে সব মামলার সত্য-মিথ্যার ফয়সালা করবেন।” তিনি তাঁর পোস্টে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও যোগ করেন, “সত্যের জয় অনিবার্য, মিথ্যা দিয়ে কখনো সত্যকে ঢেকে রাখা যায় না। যারা পরিকল্পিতভাবে এসব ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তারা সাবধান হয়ে যান। আল্লাহ তাআলা সময় দেন, কিন্তু কাউকে ছেড়ে দেন না।”
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুন মাসে এক তরুণী ডিপজলের বিরুদ্ধে অ্যাসিড নিক্ষেপ ও মারধরের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। তবে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী ওই তরুণী মূলত ডিপজলের একজন ‘অন্ধ ভক্ত’। গত বছরের ২ জুন তিনি গাবতলী পশুর হাটে ডিপজল অবস্থান করছেন এমন ধারণা থেকে সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পশুর হাটের নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁকে বাধা দিলে এক পর্যায়ে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উৎসুক জনতা তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন ভেবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তিনি নিজের কাছে থাকা এক প্রকার তরল পদার্থ নিজ দেহে ঢেলে আত্মহননের চেষ্টা করেন। সিআইডি নিশ্চিত করেছে যে, সেই সময় বা সেই স্থানে ডিপজল কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
গত ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের উপ-পরিদর্শক সুলতান মাহমুদ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বাদীপক্ষের অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রমাণহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে চলা একটি বিতর্কিত আইনি লড়াই ও সামাজিক মানহানি থেকে স্বস্তি পেলেন এই অভিনেতা।
চলচ্চিত্র অঙ্গনের এই খল অভিনেতা বিগত কয়েক মাস ধরে একাধিক ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইনি জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যে বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এবং নারী ভক্তকে লাঞ্ছিত করার মতো বিষয়গুলো গণমাধ্যমে ব্যাপক চর্চিত হয়েছিল। তবে অ্যাসিড নিক্ষেপের মতো স্পর্শকাতর মামলায় পুলিশের ক্লিনচিট পাওয়ায় ডিপজলের ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাদার জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ইমেজ পুনরুদ্ধারে এই তদন্ত প্রতিবেদন তাঁর জন্য একটি বড় বিজয়।

