বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের আপসহীন ভূমিকার প্রশংসা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, এ দেশের সাহসী তরুণরা কোনো ভিনদেশি শক্তির দাদাগিরি অতীতেও মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও মেনে নেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, যারা বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতাকে আড়াল করে নিজেদের কৃতিত্ব দাবি করতে চায়, তারা আসলে এ দেশের সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী নয়।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবসের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ ও আহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতারা একাত্তরের বিজয় এবং চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের যোগসূত্র তুলে ধরেন।
অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ইতিহাসের একটি বিতর্কিত দিক টেনে এনে বলেন, “১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস এ দেশের সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু ১৬ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক দিনে পাকিস্তানি বাহিনী কেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর কাছে আত্মসমর্পণ না করে ভারতীয় বাহিনীর কাছে করল? কেন সেদিন ওসমানীকে সেখানে উপস্থিত রাখা হয়নি? এর কারণ স্পষ্ট— ভারত চায়নি বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক।” তিনি আরও দাবি করেন, ভারত নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাদের বিজয়কে ছিনতাই করতে চেয়েছিল এবং স্বাধীনতার পর এ দেশের সম্পদ লুটপাটে লিপ্ত হয়েছিল।
জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, “চব্বিশের জুলাই বিপ্লব কেবল একটি স্বৈরাচারী সরকারের পতন নয়, বরং এটি ছিল বিদেশি আধিপত্যবাদের পরাজয়। ১৯৭১ সালে আমাদের যে স্বাধীনতা আংশিক অবদমিত করা হয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা তা পূর্ণাঙ্গভাবে ফিরিয়ে এনেছে। আর এই কারণেই পরাজিত শক্তি এখন জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের টার্গেট করছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির ওপর হামলা সেই গভীর ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। তবে বিপ্লবীরা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করবে না।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, একাত্তরে ভারতের সহযোগিতা ছিল মূলত তাদের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থে। তিনি মেজর জলিলের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, যুদ্ধের পর এ দেশের সম্পদ এমনকি রেললাইনের সরঞ্জাম পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ৫ আগস্টের পর প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আচরণে এটি স্পষ্ট যে তারা বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা মেনে নিতে পারছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি দেশে গত ১৫ বছর প্রকৃত উন্নয়নই হতো, তবে তাদের নেতাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হতো না।
সভাপতির বক্তব্যে মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির বলেন, বছরের পর বছর বিজয় দিবস পালিত হলেও ইতিহাসের অনেক সত্য তরুণ প্রজন্মের কাছে আড়ালে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের মা-বোনেরা ইজ্জত দিয়েছেন, যুবকরা প্রাণ দিয়েছেন, কিন্তু কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছে অন্য দেশ। চব্বিশের বিপ্লব আমাদের সেই দীর্ঘ জিম্মিদশা থেকে মুক্তি দিয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত জামায়াতের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের শপথ গ্রহণ করেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আধিপত্যবাদের দোসর ও ফ্যাসিস্ট শক্তিকে এ দেশের মাটিতে আর কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে দেওয়া হবে না। দোয়া অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল বীর যোদ্ধা এবং চব্বিশের আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

