যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ার কারণে তীব্র হতাশা থেকে ভারতে একজন নারী চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী এই চিকিৎসক, যার নাম রোহিনি, ভিসা প্রত্যাখ্যানের ফলে সৃষ্ট মানসিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নিজ অ্যাপার্টমেন্টে আত্মহত্যা করেন।
সোমবার (২৪ নভেম্বর ২০২৫) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ঘটনাটি গত শনিবার প্রকাশ্যে আসে। অন্য এলাকায় বসবাসকারী পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ দরজায় নক করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং চিকিৎসক রোহিনিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। প্রথমে গৃহকর্মীই দরজায় বারবার নক করে সাড়া না পেয়ে পরিবারকে খবর দেন।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে যে ডা. রোহিনি শুক্রবার রাতে ঘুমের ওষুধের অতিরিক্ত ডোজ গ্রহণ করেছেন অথবা নিজেই কোনো ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিয়েছেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে চিকিৎসক রোহিনি তাঁর হতাশার কথা উল্লেখ করেছেন এবং মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি সেখানে লেখা ছিল।
রোহিনির মা লক্ষ্মী সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁর মেয়ে চাকরি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েন। লক্ষ্মী বলেন, “সে মেধাবী ছাত্রী ছিল। ২০০৫ থেকে ২০১০ পর্যন্ত কিরগিজস্তানে এমবিবিএস করেছে। তার পড়াশোনাও খুব ভালো ছিল, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন ছিল।”
ডা. রোহিনি হায়দরাবাদের পদ্মা রাও নগরে থাকতেন এবং ইন্টারনাল মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ হওয়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। তাঁর মা লক্ষ্মী জানান, তিনি মেয়েকে ভারতেই থেকে চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু রোহিনি যুক্তরাষ্ট্রে রোগীর সংখ্যা কম এবং আয়ের সুযোগ বেশি— এই যুক্তি দেখিয়ে সেখানে যেতে চাইতেন। মা আরও জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকাকালীন রোহিনির হতাশা ও মানসিক চাপ আরও বেড়ে যায় এবং ভিসা না মেলায় তিনি মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন।

