উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর সাফি প্রদেশে মাত্র এক ঘণ্টার প্রবল ভারী বর্ষণ ও তার ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় কমপক্ষে ২১ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশিরভাগই হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ছেড়ে গেছেন।
গতকাল রোববার রাজধানী রাবাত থেকে ৩৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন ও পর্যটন শহর সাফিতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বন্যায় সাফি শহরের প্রায় ৭০টি বাড়ি এবং দোকানপাট আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়েছে।
প্রাদেশিক সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার ভোরে মরক্কোতে বৃষ্টি শুরু হলেও দুপুরের দিকে তা প্রবল বর্ষণে রূপ নেয়। এই ভারি বর্ষণ স্থায়ী হয়েছিল এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় ধরে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
আকস্মিক বন্যার কারণে সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে পুরো সাফি শহর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অসহনীয় যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে। তবে সন্ধ্যার দিকে বন্যার পানি নামতে শুরু করার পর পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করে।
মরক্কো আফ্রিকার মরু আবহাওয়ার একটি দেশ এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকায় টানা প্রায় সাত বছর ধরে দীর্ঘমেয়াদি খরা চলছিল। এমন দীর্ঘ খরার পরিস্থিতির মধ্যেই সাফি প্রদেশে আকস্মিক বন্যার এই ঘটনা স্থানীয়দের হতবাক করেছে।
সাফি শহরের ৫০ বছর বয়সী বাসিন্দা হামজা সৌদানি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেন, “আমি কখনও এই অঞ্চলে এত প্রবল বর্ষণ দেখিনি। আজকের দিনটি আমাদের ইতিহাসে কালো দিন হয়ে থাকবে।” তার এই মন্তব্য আকস্মিক দুর্যোগের মাত্রা এবং স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্ট গভীর শোকের চিত্র তুলে ধরে।
এই আকস্মিক বন্যা মরক্কোর জন্য একটি অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট আবহাওয়ার চরমভাবাপন্নতার ইঙ্গিত বহন করে। কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

