বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ নির্দেশনায় এবং সরকারের তত্ত্বাবধানে উন্নত চিকিৎসার জন্য আগামীকাল সোমবার দুপুরে গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে একটি বিশেষ মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হচ্ছে। ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য এই স্বতন্ত্র প্রার্থীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে বলে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর নিশ্চিত করেছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং রোববার রাতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ওসামান হাদির চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য গত দুদিন ধরে সরকার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ার বেশ কয়েকটি বিশ্বখ্যাত হাসপাতালের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন করে।
এই পদক্ষেপ চূড়ান্ত করার জন্য রোববার রাতে একটি জরুরি কল কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়। এই কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জাফর এবং ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদি। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার পরই প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন যে, বর্তমানে শরীফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে তাঁর মস্তিষ্কের ফোলা বৃদ্ধি এবং হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার খবর প্রকাশিত হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
আগামীকাল দুপুরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ইমার্জেন্সি বিভাগে (Accident & Emergency Division) ভর্তি করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, বিশেষ চিকিৎসক দল এবং ভ্রমণ সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, হাদিকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামীকাল সোমবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের অনুমতি চেয়েছে। তবে, এই মুহূর্তে হাদির সঙ্গে তাঁর পরিবারের বা সরকারের পক্ষ থেকে কে কে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এই জননেতার চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিবিড়ভাবে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, তিনি দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া ও প্রার্থনা চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় থেকে শরীফ ওসমান হাদি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রাক্তন ছাত্রনেতা আব্দুল্লাহ আল জাবেরের মতো কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এরই মধ্যে সরকারের চিকিৎসা সহায়তাকে “বিলম্বিত” বা “অপর্যাপ্ত” বলে সমালোচনা করেছেন। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর জীবন রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির নিরিখে, হাদি হত্যাচেষ্টা মামলায় ইতোমধ্যে আরও তিন সন্দেহভাজনকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতার সুচিকিৎসার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রধান উপদেষ্টার এই দ্রুত এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে চিকিৎসা ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনআস্থার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

