Close Menu
Bolte CaiBolte Cai
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Facebook X (Twitter) Instagram
    Bolte CaiBolte Cai
    Subscribe
    • #11 (no title)
    • জাতীয়
    • রাজনীতি
    • আন্তর্জাতিক
    • সারাদেশ
    • অর্থনীতি
    • বিনোদন
    • খেলা
    • লাইফস্টাইল
    • মতামত
    Bolte CaiBolte Cai
    Home»জাতীয়»রামপালে কয়লার বদলে সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি
    জাতীয়

    রামপালে কয়লার বদলে সৌরবিদ্যুৎ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি

    News DeskBy News DeskSeptember 8, 2026No Comments7 Mins Read
    Share Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Telegram Email Copy Link
    Follow Us
    Google News Flipboard
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Pinterest Email

    জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষ তখন গভীর রাজনৈতিক ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় মুখরিত। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খানের তোলা একটি সময়োপযোগী নোটিশের জবাবে উঠে এল দেশের পুরো বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

    একসময়ের বহুল বিতর্কিত ও পরিবেশগত উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে এসেছে এক যুগান্তকারী ঘোষণা। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা এই সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে আর পুড়বে না পরিবেশ ধ্বংসকারী কয়লা।

    কয়লাভিত্তিক উৎপাদনের পুরোনো পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করে সেখানে গড়ে তোলা হবে ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এক বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এই পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের কথা নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

    পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক অভিঘাত মোকাবিলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েই সরকার এই বড় পরিবর্তন এনেছে বলে জানান তিনি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অপার প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষায় এই পদক্ষেপ এক নতুন মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

    শুধু রামপালই নয়, কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল পাওয়ার প্রকল্পের অব্যবহৃত ছাই ফেলার জমিতেও (অ্যাশ পন্ড) চোখ পড়েছে সরকারের। সেই পড়ে থাকা বিশাল পতিত জমিতে স্থাপন করা হবে আরও ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরেকটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প।

    কয়লা চালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর অকার্যকর বা ব্যবহৃত অংশকে মেগাওয়াটের পরিবেশবান্ধব শক্তিতে রূপান্তরের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছে। এটি কেবল এক খণ্ড জমি ব্যবহারের বিষয় নয়, বরং জলবায়ু অর্থায়ন ও সবুজ জ্বালানি প্রসারে বাংলাদেশের এক ইতিবাচক বার্তা।

    অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মস্থান ফেনী জেলাতেও সৌরবিদ্যুতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জেলা সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে আধুনিক সোলার প্যানেল।

    বিদ্যুৎ বিভাগের প্রত্যক্ষ কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নির্মিত এই মডেল প্রকল্পটি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এটি দেশজুড়ে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।

    রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে চমকপ্রদ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তটি এসেছে খোদ জাতীয় সংসদ ভবনকে ঘিরে। জাতীয় আইনসভার পুরো চত্বর ও এর সমস্ত দাপ্তরিক কার্যাবলীকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে নিজস্ব সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংসদ ভবনের কোনো কার্যক্রমে জাতীয় গ্রিডের এক ইউনিট বিদ্যুৎও ব্যবহার করা হবে না। সুবিশাল এই জাতীয় স্থাপনার পুরো দৈনন্দিন চাহিদা মেটানো হবে নিজস্ব ছাদে ও ফাঁকা প্রাঙ্গণে উৎপাদিত পরিচ্ছন্ন শক্তিতে।

    এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কেবল কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রার অপচয়ই রোধ হবে না, বরং রাষ্ট্র যে পরিবেশবান্ধব অগ্রযাত্রায় কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেই জোরালো বার্তাও পৌঁছে যাবে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে। সংসদ ভবন নিজেই হয়ে উঠবে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিপ্লবের প্রধান প্রতীক।

    জাতীয় সংসদে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার দীর্ঘমেয়াদী এক বৈজ্ঞানিক প্রাক্কলন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দ্রুতমুখী শিল্পায়নের গতিধারা বজায় থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের সার্বিক চাহিদা পৌঁছাবে প্রায় ২৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার মেগাওয়াটে।

    এই ক্রমবর্ধমান বর্ধিত চাহিদা মেটাতে আমদানিকৃত অতিব্যয়বহুল ও উদ্বায়ী জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনাই এখন সরকারের মূল রণকৌশল। স্বনির্ভরতা অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রধান খাতের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

    একটি টেকসই ও বিশ্বস্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০’। এটি দেশের জ্বালানি খাতের ইতিবাচক রূপান্তরের প্রধান দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।

    নতুন এই কৌশলপত্রের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ আসবে সৌর ও বায়ুর মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় ২০৪০ সালের মধ্যে এই হার বাড়িয়ে অন্তত ৪০ শতাংশে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট ছক আঁকা হয়েছে।

    বিশাল এই ২০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা কেবল কাগজ-কলমে বা প্রশাসনিক নথিতে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি, বরং উৎসভিত্তিক উৎপাদনের সুস্পষ্ট বিভাজনও নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদন করা হবে ৫,৫০০ মেগাওয়াট।

    একই সময়ের মধ্যে সমতল ভূমিতে স্থাপিত বৃহদাকার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে আরও ৪,৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য স্থির করেছে সরকার। এটি দেশের প্রচলিত মূল জ্বালানি মিশ্রণে এক বৈপ্লবিক ভারসাম্য নিয়ে আসবে।

    সৌরবিদ্যুতের পাশাপাশি পরিবেশ দূষণমুক্ত অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তি থেকেও মিলবে বড় আকারের সবুজ বিদ্যুৎ। বায়ু শক্তি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, ভাসমান সোলার ও এগ্রি-ভোল্টাইকসের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি থেকে উৎপাদিত হবে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট।

    সব মিলিয়ে ১০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি ক্ষমতার এই বিশাল পরিচ্ছন্ন শক্তি আগামী দিনের বাংলাদেশকে হঠাৎ তৈরি হওয়া লোডশেডিং ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নীতিনির্ধারকরা।

    বিশাল এই নবায়নযোগ্য লক্ষ্য অর্জনে ব্যক্তি ও বেসরকারি খাতের মূলধন আকর্ষণে রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন শুল্ক ও কর সুবিধা। সোলার সরঞ্জাম আমদানিতে বিদ্যমান জটিল শুল্ক কাঠামো এক ধাক্কায় ছেঁটে ফেলা হয়েছে।

    সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল উপাদান সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, বিশেষায়িত ব্যাটারি ও আনুষঙ্গিক মাউন্টিং স্ট্রাকচার আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক কমিয়ে মাত্র ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে সরকার। ফলে স্থানীয় বাজারে সরঞ্জাম কেনার খরচ অনেকটাই কমে আসবে।

    তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমদানিকারক ও উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি সুবিধা। মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের যন্ত্রাংশ আমদানিতে পাবেন পূর্ণ কর ছাড়।

    সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিন বা ছয় মাসের জন্য আমদানি করা সমস্ত সোলার সরঞ্জামে অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি ও রেগুলেটরি ডিউটি পুরোপুরি মওকুফ থাকবে। একই সুবিধা মিলবে সম্পূরক শুল্ক, সংযোজন কর, আগাম কর ও অগ্রিম আয়করেও।

    আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমের প্রচণ্ড দাবাদাহে বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন সৌর বিনিয়োগকারীদের মাঠে নামাতে চায় সরকার। আগামী ৬ মাসের মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ খাতে মূলধন বিনিয়োগ করবেন, তাদের জন্য রাখা হয়েছে এক বিশেষ বাণিজ্যিক প্রস্তাব।

    বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরকার প্রতি ইউনিট ১০.৫০ টাকা নির্দিষ্ট ও আকর্ষণীয় হারে কিনে নেবে। বেসরকারি খাত থেকে উৎপাদিত এই সবুজ বিদ্যুৎ সরাসরি যুক্ত হবে জাতীয় গ্রিডে, যা গ্রিডের সার্বিক স্থিতিশীলতা ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রক্ষায় সহায়ক হবে।

    স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় বিনিয়োগ সুরক্ষায় নতুন গাইডলাইনও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে সরকারি জমিতে সৌর প্রকল্প গড়ে তুলতে জারি করা হয়েছে ‘প্রকল্প উন্নয়ন নির্দেশিকা ২০২৬’।

    পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতে স্থানীয় ও বৈচিত্র্যময় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে কার্যকর করা হয়েছে ‘বেসরকারি অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নীতিমালা ২০২৫’। এই আইনি সুরক্ষা দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলগুলোকেও আকৃষ্ট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    বাসাবাড়ি, তৈরি পোশাক কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে আধুনিকায়ন করা হয়েছে নেট মিটারিং গাইডলাইন। এর মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে পাঠায়ে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন সাধারণ গ্রাহকরা।

    জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদকে ছোট ছোট পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কারখানার নিজস্ব উৎপাদন খরচ কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের সবুজ গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

    একই সঙ্গে জনবহুল শহরগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কার্যকর শক্তিতে রূপান্তর করতে চূড়ান্ত করা হয়েছে টেকসই ‘ওয়েস্ট-টু-এনার্জি’ বিজনেস মডেল। বহু বছরের জমে থাকা ক্ষতিকর আবর্জনার স্তূপ এখন কেবল শহরকে পরিচ্ছন্নই রাখবে না, জাতীয় গ্রিডে জোগাবে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ।

    বেসরকারি বিদ্যুৎ উদ্যোক্তাদের সঞ্চালন খরচ কমাতে হুইলিং চার্জ এবং ক্রস সাবসিডি চার্জের সামাজিক ও আইনি জটিলতাগুলো দ্রুত সমাধানের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে সংসদে জানান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী।

    বিদ্যুৎ খাতের এই সামগ্রিক রূপান্তরের সুফল কেবল পরিবেশ রক্ষা বা অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং এটি যুক্ত হচ্ছে দেশের সামাজিক বাস্তবতা ও উদীয়মান রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে। সম্প্রতি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া তরুণদের জন্য এর মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান।

    মেধাবী ও সাহসী তরুণদের সৌরবিদ্যুৎ খাতের আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ অর্থনৈতিক প্রণোদনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে নীতিগত আলোচনা শুরু হয়েছে।

    এছাড়া আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও অন্যান্য বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে সহজ শর্তে ঋণ ও অনুদান এনে তরুণদের নতুন নতুন গ্রিন স্টার্টআপে বিনিয়োগ করার কৌশলগত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

    এই পদক্ষেপের ফলে হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণের স্বকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত কোটি কোটি ডলারের দামি জ্বালানি তেলের নির্ভরতা কমিয়ে দেশ পাবে এক স্বনির্ভর ও টেকসই পরিবেশবান্ধব জাতীয় অর্থনীতি।

    সংসদের ফ্লোরে বিদ্যুতের এই সার্বিক ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার সময় এক ধরনের নমনীয় কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয় ফুটে ওঠে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে। এটি কেবল মেগাওয়াট বা ডলারের কঠিন হিসেব নয়, এটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা এক নদীমাতৃক দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।

    দীর্ঘদিন ধরে যেসব এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ধোঁয়া আর ছাই মানুষের ফুসফুস ও কৃষিজমিকে হুমকির মুখে ফেলেছিল, সেখানে এখন নীল আকাশের নিচে প্রতিফলিত হবে সিলিকনের সোলার প্যানেল। কয়লার কালো ছায়া কাটিয়ে আলো ছড়াবে সূর্যের বিশুদ্ধ তেজ।

    রামপালের ম্যানগ্রোভ বন থেকে শুরু করে ফেনীর দূরবর্তী সরকারি ভবনের ছাদ—সর্বত্রই এখন পরিবর্তনের এক শান্ত সুবাতাস। প্রকৃতির সঙ্গে বৈরিতা নয়, বরং পরিবেশকে বন্ধু বানিয়েই যে টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সম্ভব, তা বাস্তবায়নের পথেই এখন হাঁটছে বাংলাদেশ।

    সংসদের স্পিকারের হাতুড়ির সমাপনী শব্দে অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পরও কক্ষের বাতাসে ভাসছিল এক নতুন আশার স্বর। বৈশ্বিক মহামারি ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের পর কয়লার পুরোনো পথ ছেড়ে দিয়ে সবুজ শক্তির ওপর ভর করে বাংলাদেশ এখন এমন এক ভোরের দিকে পা বাড়াচ্ছে, যেখানে শক্তি হবে পরিচ্ছন্ন এবং সবার জন্য সমান।

    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email
    News Desk
    • Website

    Related Posts

    ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী ৩ মাসের মেগা অভিযান শুরু শনিবার

    September 8, 2026

    গ্যাস সংকট কাটলেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে : ডা. জাহেদ

    September 8, 2026

    জ্বালানি সংকট কাটাতে আফ্রিকার দিকে নজর সরকারের : শামা ওবায়েদ

    September 5, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    b c.png
    Facebook X-twitter Youtube Telegram
    • About Us
    • Contact Us
    • Privacy Policy
    • Terms & Condition
    • DMCA
    • ১০/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৭
    • +৮৮০১৫৮১৭৯৭৬৪৮
    • info@boltecai.com

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.