রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে মশার উপদ্রব এক পরিচিত এবং আতঙ্কজনক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই ক্ষুদ্র পতঙ্গটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে এডিস মশার কারণে সৃষ্ট ডেঙ্গু জ্বর অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি প্রাণঘাতী ও বিস্তার লাভকারী হয়ে উঠেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং আসন্ন ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে সরকার এবার সম্পূর্ণ নতুন ও সমন্বিত এক কৌশল গ্রহণ করেছে।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর, শনিবার দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধে এক বিশাল পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। টানা তিন মাসব্যাপী চলবে এই বিশেষ মেগা অভিযান। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনার কথা জানান। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
চলতি বছরের আগামী তিন মাসকে ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বর্ষার বিদায়বেলায় থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিপাত এবং যত্রতত্র জমে থাকা পরিষ্কার পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য সবচেয়ে আদর্শ পরিবেশ তৈরি করে। ছাদের ওপর পড়ে থাকা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল থেকে শুরু করে নির্মাণাধীন ভবনের গর্ত—সবখানেই নীরবে জন্ম নেয় এই প্রাণঘাতী মশা। এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেবল সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কেবল গতানুগতিক মশকনিধন কার্যক্রম বা ফগিংয়ের ওপর নির্ভর করে বসে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে। রাসায়নিক স্প্রে করে সাময়িকভাবে উড়ন্ত মশা মারা গেলেও, এর উৎস ধ্বংস না করলে এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই এখন থেকে পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আর এই কাজে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও মাঠে নামাতে হবে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের আপামর ছাত্রসমাজকে একই ছাতার নিচে নিয়ে আসার এক অভিনব রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর থেকে শুরু করে তৃণমূলের সাধারণ মানুষ—সবাইকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় এনে মাঠপর্যায়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা ও কাজের গতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক কাঠামোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্বও বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।
কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে এলাকাভিত্তিক তদারকির দায়িত্ব ভাগ করে দিয়েছে সরকার। মহানগর এলাকাগুলোতে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনগুলো। তারা তাদের নিজস্ব জনবল ও যন্ত্রপাতির পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের দিকনির্দেশনা দেবে। অন্যদিকে জেলা পর্যায়ে এই গুরুদায়িত্ব পালন করবেন জেলা প্রশাসকেরা। আর তৃণমূল বা উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে নিয়ে এই কার্যক্রমের সরাসরি নেতৃত্ব দেবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।
এই তিন মাসের কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে থাকছে এক বিশাল স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর সরাসরি অংশগ্রহণ। কেবল সরকারি কর্মচারী নয়, এই অভিযানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল। তাদের সঙ্গে আরও যুক্ত হবে তারুণ্যদীপ্ত বাংলাদেশ স্কাউটস, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং গার্ল গাইডসের প্রশিক্ষিত সদস্যরা। একইসঙ্গে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরাও এই পরিচ্ছন্নতা যুদ্ধে নিজেদের মেধা ও শ্রম দেবেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও এই সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারুণ্যের এই বিশাল শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ছক কষেছে সরকার। ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে কিভাবে নাগরিক দায়িত্ব পালন করা যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছে এই তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী তিন মাসের প্রতি শনিবার দেশের আনাচে-কানাচে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হবে। সপ্তাহের এই নির্দিষ্ট দিনে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক এবং শিক্ষার্থী বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মানুষের বাসাবাড়ি, বাণিজ্যিক ভবন ও পরিত্যক্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করবেন। তারা নিজ হাতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির মালিকদেরও এই কাজে উদ্বুদ্ধ করবেন। তাদের এই সরাসরি উপস্থিতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের মানসিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবারের এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলগুলো খুঁজে বের করা এবং তা ধ্বংস করা। ভবনের বেসমেন্ট, ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোসা বা এসির জমে থাকা পানি—কোথায় মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হবে। বাড়ির আঙিনা এবং আশপাশের পরিবেশ নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখার যে নাগরিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সে বিষয়েও বাসিন্দাদের সচেতন করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাঠপর্যায়ের এই সরাসরি লড়াইয়ের পাশাপাশি গণমাধ্যমে এক বিশাল প্রচারযুদ্ধ চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক যুগে মানুষের আচরণ পরিবর্তনে প্রচারমাধ্যমের শক্তির বিষয়টি অনুধাবন করে তিনি এই নির্দেশ দেন। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা মানুষের মগজে ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মানুষ যেন কোনোভাবেই এই বিপদের কথা ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন প্রচার চালানো হবে।
বিশেষ করে দেশের প্রতিটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রাইম টাইমে জনসচেতনতামূলক টিভিসি বা বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধের ছোট ছোট ভিডিও, গ্রাফিক্স কার্ড এবং সতর্কবার্তা প্রচার করা হবে। ডিজিটাল এই প্রচারণার ফলে ঘরে বসে থাকা একজন সাধারণ নাগরিকও সহজে বুঝতে পারবেন তার করণীয় কী।
সচিবালয়ের এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে, আগামী তিন মাস আমাদের সবার জন্যই এক চরম পরীক্ষার সময়। এই সময়ে কেবল সরকারি উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না, বরং প্রতিটি সাধারণ মানুষের সক্রিয় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নিজের বাসাবাড়ি, সন্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থলের সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং আশপাশের পুরো এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে এক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতা প্রতিরোধে সরকার যে কতটা আন্তরিক, তার প্রমাণ মেলে সচিবালয়ের মঙ্গলবারের এই বৈঠকের উপস্থিতির দিকে তাকালেই। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এই সভায় অংশ নিয়েছিলেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ সভায় উপস্থিত থেকে তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও তৃণমূল পর্যায়ের রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন।
এছাড়াও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দীন হায়দার জনস্বাস্থ্যের এই সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রশাসনিক সমন্বয়ের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের এই সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ডেঙ্গুকে আর কেবল একটি সাধারণ রোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এটিকে একটি জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গুর মতো একটি মশাবাহিত রোগ কীভাবে একটি আস্ত সমাজকে স্থবির করে দিতে পারে, তা বিগত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। বর্ষার মৌসুম এলেই প্রতিটি পরিবারে এক অজানা আতঙ্ক ভর করে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না।
জ্বর এলেই মানুষ ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে ভিড় জমায়। চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারকে সর্বস্বান্ত হতে হয়। রাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও এর এক বিশাল নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয়—সব মিলিয়ে ডেঙ্গু এখন আর কেবল স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, বরং এটি একটি বড় অর্থনৈতিক ধাক্কাও বটে।
সরকারের এবারের তিন মাসের কর্মসূচির আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। সিটি করপোরেশন বা স্থানীয় সরকার বিভাগগুলোর মশা মারার ওষুধ কেনা বা ছিটানোর ক্ষেত্রে যে অস্বচ্ছতার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, জনসম্পৃক্ততার কারণে এবার সেই সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। যখন পাড়ার তরুণরা নিজেরাই স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবে, তখন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও তাদের দায়িত্ব পালনে আরও বেশি সচেষ্ট হতে বাধ্য হবেন। এই সামাজিক নজরদারি ডেঙ্গু প্রতিরোধের সরকারি তহবিলগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি সমাজবিজ্ঞানীদের মতে এক মাস্টারস্ট্রোক। আজকের শিশু ও কিশোররা যখন নিজ হাতে তাদের স্কুল প্রাঙ্গণ বা বাসার ছাদ পরিষ্কার করবে, তখন পরিচ্ছন্নতার এই বোধ তাদের অবচেতন মনে গেঁথে যাবে। পাঠ্যবইয়ের পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে এটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল ব্যবহারিক শিক্ষা।
তারাই একদিন বড় হয়ে যখন এই দেশের হাল ধরবে, তখন তাদের হাত ধরে একটি প্রকৃত অর্থেই পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। বয়স্কদের অভ্যাসে পরিবর্তন আনা কঠিন হলেও, তরুণ প্রজন্মের এই সম্পৃক্ততা দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে।
তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রথমত, টানা তিন মাস প্রতি শনিবার সাধারণ মানুষকে এই কার্যক্রমে ধরে রাখাটা সহজ হবে না। শুরুর দিকের উৎসাহ হয়তো কয়েক সপ্তাহ পর স্তিমিত হয়ে আসতে পারে। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য প্রশাসনকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগ নিতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভালো কাজ করা দলগুলোকে পুরস্কৃত করার মতো পদক্ষেপগুলো এই ক্ষেত্রে কার্যকরী হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ডেঙ্গু প্রতিরোধের পথে এক বড় বাধা। ড্রেনগুলোতে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য জমে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া নগরজীবনের এক নিয়মিত চিত্র। কেবল নাগরিকদের বাসাবাড়ি পরিষ্কার করলেই হবে না, সিটি করপোরেশনগুলোকে তাদের আওতাধীন নালা, নর্দমা ও খালগুলো আবর্জনামুক্ত রাখার কঠিন কাজটিও অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করতে হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর নিজস্ব গাফিলতি থাকলে সাধারণ মানুষকে কেবল উপদেশ দিয়ে খুব একটা লাভ হবে না।
শনিবারের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা দেশ। প্রধানমন্ত্রীর একটিমাত্র ঘোষণায় যেভাবে রাষ্ট্রের সকল যন্ত্র একযোগে কাজ শুরু করেছে, তা ডেঙ্গুর মতো মহামারি রোধে অত্যন্ত জরুরি ছিল। ১২ সেপ্টেম্বরের এই সূচনা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি একটি মরণঘাতী ভাইরাসের বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ জাতির যুদ্ধ ঘোষণা। এই যুদ্ধে জয়ী হতে হলে দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি সুস্থ ও সক্ষম নাগরিককে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ মশা কখনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক মর্যাদা দেখে কামড়ায় না, এর কাছে সবাই সমান অরক্ষিত।

