বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা লঙ্ঘন করেছে, যার জন্য জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম লং মার্চ চলাকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে আয়োজিত এই লং মার্চ সকাল ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ডে পথসভার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। ডা. শফিকুর রহমান তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, তাঁরা রাজপথে নেমেছেন মূলত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন এবং জনগণের ঘরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের দাবিতে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে দেশের মানুষ যখন দিশেহারা, তখন সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে যে ভাঁওতাবাজি করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তারা কথায় কথায় ওয়াদা দিচ্ছে, আবার তা অবলীলায় ভেঙে ফেলছে। দেশের মানুষ এই প্রতারণা আর সহ্য করবে না। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, আপনাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা রাজপথে নেমেছি। এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আন্দোলন করছি। আমাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ইনশাআল্লাহ সফল হবে। চূড়ান্ত বিজয়ের হাসি হেসে তবেই আমরা রাজপথ ছাড়ব। তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মীর মধ্যে উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের এই লং মার্চের মূল লক্ষ্য হলো ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি আদায়। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা রক্ষা, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস-জ্বালানির তীব্র সংকট নিরসন। এই দাবিগুলো দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিদিনকার বেঁচে থাকার লড়াইয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
শনিবার সকাল থেকেই রাজধানীর আশপাশ, নারায়ণগঞ্জ শহর এবং সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক লং মার্চে যোগ দিতে শিমরাইল ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। প্রাথমিক পথসভা শেষে লং মার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
শিমরাইলের অস্থায়ী মঞ্চে আয়োজিত এই পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের অন্য শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন তাঁদের বক্তব্যে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরেন এবং আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
লং মার্চটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথসভা করবে বলে নির্ধারিত রয়েছে। এসব পথসভার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে তাদের দাবির যৌক্তিকতা বোঝানোর চেষ্টা করবেন। এরপর চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি মাঠে এক বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই লং মার্চের সমাপ্তি ঘটবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচিকে বিরোধী দলগুলোর একটি বড় শক্তির মহড়া হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

