ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি এবার বড় পর্দায় অভিষেক ঘটাতে চলেছেন নির্মাতা রায়হান খানের নতুন সিনেমা ‘ট্রাইব্যুনাল’-এর মাধ্যমে। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কেবল রূপালি পর্দায় উপস্থিতি নয়, বরং বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনে এসে তানিয়া বৃষ্টি তাঁর এই জার্নির পেছনের কঠিন পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেছেন, যা দর্শকদের কৌতূহল বাড়িয়েছে।
‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমার একটি বিশেষ চরিত্রের জন্য তানিয়া বৃষ্টিকে অত্যন্ত জটিল ‘প্রস্থেটিক মেকআপ’ নিতে হয়েছে। এই মেকআপ প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, মেকআপ ডিপার্টমেন্টের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই চূড়ান্ত রূপে পৌঁছাতে তাঁকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হতো। তবে চ্যালেঞ্জটা শুধু সময়ের ছিল না, এটি ছিল তাঁর শারীরিক ও মানসিক ধৈর্যের এক চরম পরীক্ষা।
তানিয়া বৃষ্টি বলেন, “একবার এই প্রস্থেটিক মেকআপ নেওয়ার পর আমার আর কিছু করার উপায় ছিল না। দীর্ঘ সময় মেকআপ পরে থাকা অবস্থায় আমি না পারতাম কিছু খেতে, না পারতাম পানি পান করতে। এমনকি শুটিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশরুমে যাওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না।” সব মিলিয়ে, তাঁর জন্য পুরো কাজটাই ছিল ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।
অভিনেত্রীর মতে, তাঁর এই ত্যাগ সম্পূর্ণ সার্থক, কারণ দর্শকদের জন্য বড় একটি চমক অপেক্ষা করছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, “এই লুকে আমাকে দেখার পর দর্শকরা একটি বড় টুইস্ট পাবেন। ১৯৭১ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সিনেমার ইতিহাসে এমন গেটআপ বা মেকআপ আগে কখনও দেখা যায়নি। এটা একটা ইউনিক এক্সপেরিয়েন্স হতে যাচ্ছে।”
তানিয়া বৃষ্টি আশা প্রকাশ করেন যে তাঁর এই মেহনত দর্শকরা মূল্যায়ন করবেন। দর্শকদের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষ যেন অন্তত প্রেক্ষাগৃহে এসে এই কষ্টটা উপলব্ধি করে। তাঁর কথায়, “আমরা, বিশেষ করে আমি এই লুকটি ফুটিয়ে তুলতে কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছি, তা দর্শকরা স্ক্রিনে দেখলেই বুঝতে পারবেন।”
তাঁর এই কঠিন শ্রম এবং ব্যতিক্রমী সাজসজ্জার মাধ্যমে ‘ট্রাইব্যুনাল’ সিনেমাটি দেশের চলচ্চিত্র শিল্পে একটি নতুন মাইলফলক তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

