বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘সুবিধাবাদ ও দ্বিচারিতা’র রাজনীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জনগণের সাথে প্রতারণা করে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা সম্ভব নয় এবং অচিরেই তাদের জাতির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে মামুনুল হক এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি মুখে এক কথা বললেও অন্তরে ভিন্ন উদ্দেশ্য পোষণ করছে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
মামুনুল হক দাবি করেন, সাম্প্রতিক গণভোটের আগে থেকেই বিএনপি তলে তলে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়েছিল। তিনি বলেন, “তাদের ৩০০ আসনের প্রার্থী এবং সব অঙ্গসংগঠন গোপনে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েছে। কিন্তু যখন তারা দেখল যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, তখন পরাজয়ের ভয়ে বাধ্য হয়ে তাদের চেয়ারম্যান ভোল পাল্টে ফেলেন।”
খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, “নির্বাচনী বৈতরণি পার হওয়ার পর বিএনপি তাদের সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। এই ধরনের দ্বিচারিতা মূলত জনগণের সাথে ভাওতাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি অবিলম্বে গণভোটের রায় কার্যকর করার জোর দাবি জানান।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বর্তমান বিতর্ক প্রসঙ্গে মামুনুল হক মন্তব্য করেন যে, এর আগে দেশে ১৭ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু তার কোনটিই টেকসই হয়নি। তিনি বলেন, “মানুষ এবার কোনো জোড়াতালির সংশোধন দেখতে চায় না। জনগণের ম্যান্ডেট ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে এই কাঠামোর আমূল সংস্কার করা।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন। মামুনুল হকের মতে, বিএনপি এই সনদের মূল চেতনা বা স্পিরিট বাস্তবায়ন করতে চায় না। বরং তারা তাদের নিজস্ব ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো জাতির ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
শহীদ পরিবার ও জুলাই অভ্যুত্থানের আহত যোদ্ধাদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা যদি এভাবে প্রতারণা চালাতে থাকেন, তবে জুলাইয়ের যোদ্ধারা চুপ করে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে বাংলাদেশে আরও একটি নতুন সংগ্রামের সূচনা হবে।”
মামুনুল হক বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “সুবিধাবাদের রাজনীতি ত্যাগ করুন। সংবিধানে কী সংস্কার হবে বা হবে না—এই সব মারপ্যাঁচ বাংলার মানুষ এখন ভালো করেই বোঝে।” তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে উপস্থিত হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, কোনো বিশেষ দলের ক্ষমতায় যাওয়াই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল না; লক্ষ্য ছিল একটি সুন্দর ও সুশাসিত বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হলে আবারও রাজপথ প্রকম্পিত হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মামুনুল হকের এই বক্তব্য বিরোধী শিবিরের ভেতরে বাড়তে থাকা ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। বিশেষ করে জুলাই পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলগুলোর মধ্যে আদর্শিক দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিচ্ছে।

