বাংলার নির্বাচনী পারদ এখন তুঙ্গে। আগামী ২৩ এপ্রিলের হাইভোল্টেজ ভোটের আগে রণহুঙ্কার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতী ও মাফিয়াদের কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শাহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের দিন রাস্তায় নেমে কোনো ধরনের অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে তার ফল হবে ভয়াবহ।
নির্বাচনী প্রচারের শেষলগ্নে এসে বিজেপি নেতৃত্ব ‘আক্রমণই শ্রেষ্ঠ রক্ষণ’ নীতি গ্রহণ করেছে। কেবল অমিত শাহ নন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই সুরে দুষ্কৃতীদের আত্মসমর্পণের পরামর্শ দিয়েছেন। মোদী-শাহ জুটির আক্রমণের মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলার কথিত ‘সিন্ডিকেটরাজ’ ও ‘মাফিয়ারাজ’। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়লে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর পাশাপাশি গত এক দশকের ‘সবকা হিসাব’ নেওয়া হবে।
কুলটির সভা থেকে অমিত শাহ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা কান খুলে শুনে রাখুন— ২৩ তারিখ ভোটের দিন ঘর থেকে বেরোবেন না। যদি বাইরে এসে গোলমাল করার দুঃসাহস দেখান, তবে মনে রাখবেন ৪ মে বিজেপি সরকার গঠনের পর আপনাদের রক্ষা করার কেউ থাকবে না। আমরা প্রতিটি হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেব।” শাহের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এর আগে গত রোববার বাঁকুড়ার এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই সুর বজায় রেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “বাংলার মানুষ আর অন্যায় সহ্য করতে রাজি নয়। সিন্ডিকেট আর কয়লা মাফিয়াদের আমি শেষবারের মতো সতর্ক করছি— ২৯ এপ্রিলের আগেই আত্মসমর্পণ করুন। পারলে ২৩ তারিখের আগেই নিজেদের শুধরে নিন। কারণ ৪ মের পর আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না।” বিশেষ করে বিষ্ণুপুরের মাফিয়া ও কয়লা পাচারকারীদের নাম করে হুঁশিয়ারি দেন প্রধানমন্ত্রী।
অমিত শাহ এদিন কেবল আইনশৃঙ্খলা নয়, বরং অনুপ্রবেশের মতো সংবেদনশীল ইস্যুটিকেও পুনরায় সামনে এনেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “৫ মে বাংলায় বিজেপি সরকার শপথ নেওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হবে। ধাপে ধাপে প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে বাংলা থেকে বিতাড়িত করা হবে।” তার এই বক্তব্য সিএএ ও এনআরসি বিতর্ককে ভোটের ঠিক আগে নতুন করে উসকে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অবশ্য এই হুঁশিয়ারিকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ এবং ‘ভোটারদের ভয় দেখানোর অপকৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী যে, সাধারণ মানুষ এই মাফিয়ারাজ থেকে মুক্তি চায়। কুলটির সভায় অমিত শাহের ভিড় এবং মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ ইতিমধ্যেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
ভোটের আগে এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি আর চরম উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন নির্বাচন কমিশনের বড় চ্যালেঞ্জ। ২৩ এপ্রিলের ভোট যুদ্ধ কেবল ব্যালটের নয়, বরং এটি শক্তির লড়াইয়েও পরিণত হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ৪ মে শেষ পর্যন্ত বাংলার তখতে কার অভিষেক ঘটে এবং মোদী-শাহের এই ‘হিসাব নেওয়ার’ হুঙ্কার বাস্তবে কতটা প্রতিফলিত হয়।

