মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক সংকটে নতুন করে ঘি ঢাললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ইরান অসংখ্যবার চলমান যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্পের এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তার পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করলেও অভিযোগ করেছেন যে, তেহরান আন্তর্জাতিক আইন ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তির তোয়াক্কা করছে না। প্রেসিডেন্টের এই হার্ডলাইন বা কট্টর অবস্থানের কারণে মঙ্গলবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ইসলামাবাদ শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন গভীর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে অতর্কিতে গুলি চালিয়েছে, যা বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির নগ্ন লঙ্ঘন। তবে তেহরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উল্টো ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সমুদ্রপথে অন্যায্য অবরোধ জারি রেখে ইরানের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছে এবং এটিই মূলত চুক্তির প্রধান লঙ্ঘন।
ট্রাম্প অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে একটি ‘নতুন ও বড়’ কোনো চুক্তি সই না হচ্ছে, ততক্ষণ ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে। ট্রাম্পের এই ‘চরম চাপ’ প্রয়োগের নীতি একদিকে যেমন ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ধস নামাচ্ছে, অন্যদিকে তা তেহরানকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে প্ররোচিত করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পাল্টাপাল্টি এই দোষারোপের কারণে ইসলামাবাদের রেড জোনে যখন কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার কথা, তখন সেখানে বিরাজ করছে এক গুমোট আতঙ্ক। বিশ্বনেতারা আশা করেছিলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হয়তো কিছুটা নমনীয় হবে। কিন্তু ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য এটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন আপাতত কূটনীতির চেয়ে শক্তির প্রদর্শনেই বেশি আগ্রহী।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ মহলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হুমকির মুখে বা কোনো দেশের ‘ডিকটেশন’ মেনে নিয়ে তারা আলোচনায় বসবে না। ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতাকে তারা যুদ্ধের উসকানি হিসেবে দেখছে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই বসন্তে পারস্য উপসাগরের জল যে কোনো মুহূর্তে বারুদে রূপ নিতে পারে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই শঙ্কা আরও জোরালো হলো।

