মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক তখনই পশ্চিমা শক্তি ও তেল আবিবের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় তোপ দাগলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ইরানের বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার কড়া সমালোচনা করে তিনি এই দুই রাষ্ট্রকে ‘প্রকৃত সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তেহরানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরান কোনোভাবেই এই অন্যায্য আগ্রাসন মুখ বুজে সহ্য করবে না। তার মতে, আন্তর্জাতিক আইন এবং মানবিকতার তোয়াক্কা না করেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে। যা কেবল একটি স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
বুধবার সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিশ্বের দরবারে তারা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা চালায়। তারা দাবি করে আমরাই নাকি আসল সন্ত্রাসী। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃতপক্ষে তারাই আসল সন্ত্রাসী যারা সাধারণ মানুষের পরিষেবা ও অবকাঠামোতে আঘাত হেনে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।”
সম্প্রতি ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ খাতের বেশ কিছু স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে, যার পেছনে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলছে তেহরান। পেজেশকিয়ান মনে করেন, এই ধরণের হামলা কোনো সামরিক কৌশল হতে পারে না, বরং এটি সাধারণ জনগণকে জিম্মি করার একটি নোংরা প্রচেষ্টা।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, যারা প্রতিনিয়ত মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সময় তাদের নীতি কোথায় থাকে? আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এখন এই দেশগুলোর জন্য এক ধরণের নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ানের এই কঠোর অবস্থান এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের মেঘ জমছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের এই ‘সন্ত্রাসী’ তকমা দুই পক্ষের মধ্যকার সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় যেকোনো পর্যায়ে যেতে প্রস্তুত। ওয়াশিংটন বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই মন্তব্যের কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, তেহরানের এই সুর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে আলোচনার টেবিল নয়, বরং যুদ্ধের দামামা আরও জোরালো হচ্ছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলে যখন শান্তি ফেরানোর কথা উঠছে, তখন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর অবকাঠামোতে হামলার এই চিত্র এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, বরং এটি ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক কৌশলেরই একটি বহিঃপ্রকাশ।

