মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, তেহরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম বা অস্ত্র সরবরাহ না করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে বেইজিং। বুধবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
ট্রাম্পের এই বার্তার আগে আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, ইরানকে নতুন প্রজন্মের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করতে পারে চীন। তবে বেইজিং সেই সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের খবরগুলো “সম্পূর্ণ বানোয়াট”। বেইজিংয়ের এই আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পর ট্রাম্পের দাবি নতুন মাত্রা যোগ করল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে একটি ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তিনি তেহরানকে কোনো প্রকার সমরাস্ত্র না দেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান। ট্রাম্পের মতে, চীন এখন ওয়াশিংটনের সাথে সহযোগিতামূলক অবস্থানে আসতে ইচ্ছুক। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় চীন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে, আর এই কৃতিত্ব ট্রাম্প নিজের বলে দাবি করেছেন।
ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়ায় চীন খুব খুশি। আমি এটা কেবল তাদের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্যই করেছি। চীন এখন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। আমরা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একসাথে কাজ করছি। মারামারির চেয়ে কি এটা ভালো নয়?” তবে শান্তিকামী বার্তার শেষে নিজের স্বভাবসুলভ হুশিয়ারিও যোগ করেছেন তিনি। ট্রাম্প মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে লড়াই করতেও যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের যে কারো চেয়ে অনেক বেশি পারদর্শী।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি চীন সত্যিই ইরানকে অস্ত্র না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তবে তা তেহরানের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিপর্যয়। যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে বেইজিংয়ের মতো শক্তিশালী মিত্রের থেকে সামরিক সহায়তা না পাওয়া ইরানকে আলোচনার টেবিলে আরও কোণঠাসা করে ফেলবে। অন্যদিকে, এটি ট্রাম্পের ‘ডিল-মেকিং’ কৌশলের একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বেইজিং এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের এই ‘সম্মতি’র বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল জানিয়েছে তারা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তবে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া প্রতিবাদ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বড় কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে চাইছে না।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া চীনের জ্বালানি আমদানির জন্য অত্যন্ত জরুরি। ট্রাম্প সম্ভবত এই অর্থনৈতিক স্বার্থকেই চীনের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এখন দেখার বিষয়, বেইজিংয়ের এই তথাকথিত প্রতিশ্রুতি সামনের দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনায় কী প্রভাব ফেলে। যদি চীন সত্যিই পিছিয়ে যায়, তবে ইরানকে হয়তো অনেক বেশি নমনীয় হয়েই ইসলামাবাদের দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে হবে।

