বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের এক অনন্য স্বীকৃতি মিলল যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এর পাতায়। ২০২৬ সালের বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার মার্কিন এই সাময়িকী তাদের বার্ষিক তালিকাটি প্রকাশ করার পর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
টাইম ম্যাগাজিনের এই তালিকায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের চারটি বিভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ‘লিডারস’ বা বিশ্বনেতা ক্যাটাগরিতে ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ এশীয় কোনো নেতার এমন অবস্থান এই অঞ্চলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতি বছর টাইম ১০০ তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যারা তাদের কর্মকাণ্ড, চিন্তাধারা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে সমসাময়িক বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছেন। ২০২৬ সালের এই তালিকায় তারেক রহমানের অন্তর্ভুক্তি মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটে ঢাকার সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে, মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ৫ লাখ সরকারি নিয়োগের মতো সাহসী প্রশাসনিক পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। এছাড়া ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের যে রূপরেখা তিনি তৈরি করেছেন, তাকেও এই অর্জনের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পরিবেশবাদী, প্রযুক্তিবিদ ও বিনোদন জগতের তারকাদের সাথে এই তালিকায় স্থান পাওয়া কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং পুরো দেশের জন্য একটি বড় অর্জন। টাইম ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয়তে সাধারণত এই তালিকায় স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের প্রভাবের ধরণ নিয়ে আলোকপাত করা হয়। সেখানে তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধরণকে ‘গতিশীল’ ও ‘পরিবর্তনকামী’ হিসেবে উল্লেখ করার সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর টাইম ১০০ তালিকাটি প্রকাশের পর নিউ ইয়র্কে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সমবেত হন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ভূ-রাজনৈতিক দরকষাকষিতে ঢাকাকে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদে যখন ৫ লাখ নিয়োগ ও প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় পার করছেন, ঠিক তখনই সমুদ্রের ওপার থেকে আসা এই সংবাদ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার অনুসারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই সংবাদ ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই উত্থান আগামীর দিনগুলোতে দেশটির মর্যাদাকে আরও সুসংহত করবে—টাইমের এই তালিকা অন্তত সেই বার্তাই দিচ্ছে।

