মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধবিমানের গর্জনে প্রকম্পিত, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন থেকে এল এক চরম কঠোর ও অপোসহীন বার্তা। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো চুক্তির বিষয়ে আলোচনার পথ খোলা থাকলেও, শর্ত না মানলে সেই আলোচনা ‘বোমা’ দিয়েই চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটে হেগসেথ। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, পেন্টাগন এখন আর কেবল কূটনীতিতে বিশ্বাসী নয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু সেই চুক্তি হতে হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া কঠোর শর্তাবলীর ভিত্তিতে। যদি তেহরান সেই পথে না হাঁটে, তবে আমাদের আলোচনার ভাষা হবে বোমা।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে এই বার্তাই দিল যে, আলোচনার সুযোগ দেওয়ার দোহাই দিয়ে তারা সামরিক অভিযান এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ রাখবে না। অর্থাৎ, একদিকে চলবে কূটনীতি, অন্যদিকে চলবে লক্ষ্যভেদী বিমান হামলা।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ইরানে স্থল অভিযানের বা সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এর জবাবে হেগসেথ রহস্য বজায় রেখে বলেন, “প্রয়োজন পড়লে আমরা সেনা পাঠাতে দ্বিধা করব না। তবে সামরিক কৌশলের খাতিরে এ বিষয়ে আগাম কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হবে না।” তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইস্ফাহানের বাঙ্কার বাস্টার হামলার পর এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।
জ্বালানি সরবরাহ ও হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক চমকপ্রদ দাবি করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আগের চেয়েও বেশি জাহাজ চলাচল করছে এবং এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা’ নীতির। তবে একই সঙ্গে তিনি মিত্র দেশগুলোর নির্লিপ্ততা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। হেগসেথ প্রশ্ন তোলেন, “যুক্তরাজ্যের রাজকীয় নৌবাহিনী এখন কোথায়? তারা কেন হরমুজ উন্মুক্ত রাখতে এবং জাহাজ চলাচলে সহায়তা করতে এগিয়ে আসছে না?”
মার্কিন এই শীর্ষ কর্মকর্তা আরও অভিযোগ করেন যে, চলমান যুদ্ধে ইরানকে নেপথ্য থেকে সহায়তা করছে রাশিয়া ও চীন। মস্কো ও বেইজিংয়ের এই ভূমিকা ওয়াশিংটনের নজরদারিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। মূলত ইরানকে একঘরে করে দেওয়ার যে পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসন হাতে নিয়েছে, হেগসেথের বক্তব্য তারই প্রতিফলন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, “বোমা দিয়ে আলোচনা” করার এই নীতি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির। এটি কেবল ইরান নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে খাদের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের এই মারমুখী অবস্থানের পর তেহরান বা তাদের মিত্ররা পাল্টা কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। একদিকে তেলের আকাশচুম্বী দাম আর অন্যদিকে পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কা—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই বসন্ত বিশ্ববাসীর জন্য এক চরম অস্থিরতার বার্তা নিয়ে এসেছে।


1 Comment
very informative articles or reviews at this time.