ভারতের দক্ষিণী সিনেমার মহাতারকা বিজয় থালাপতি এখন পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ। আসন্ন তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজের রাজনৈতিক দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাঝাগাম’ (টিভিকে)-এর প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন তিনি। এই নির্বাচনে বিজয় নিজে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আসন— পেরাম্বুর এবং ত্রিচি ইস্ট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) এক জমকালো অনুষ্ঠানে দলের ইশতেহার ও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার সময় বিজয় তামিলনাড়ুর ভোটারদের প্রতি এক আবেগঘন আহ্বান জানান। নিজের নির্বাচনি প্রতীক ‘হুইসেল’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি একে একটি ‘হুইসেল বিপ্লব’ হিসেবে অভিহিত করেন। বিজয় বলেন, “আমায় এবং আমার দলের প্রার্থীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করবেন না; আমাদের একবার সুযোগ দিয়ে দেখুন।”
পাঁচমুখী লড়াই ও স্ট্যালিনকে চ্যালেঞ্জ
আগামী ২৩ এপ্রিল তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনকে বিশ্লেষকরা পাঁচমুখী লড়াই হিসেবে দেখছেন। একদিকে ক্ষমতাসীন ডিএমকে তাদের দুর্গ রক্ষায় মরিয়া, অন্যদিকে এআইএডিএমকে এবং বিজেপির এনডিএ জোট ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। এর মাঝেই বিজয়ের ‘টিভিকে’ তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়ে সমীকরণ ওলটপালট করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিজয় যে দুটি আসনে লড়ছেন, সেই পেরাম্বুর ও ত্রিচি ইস্ট বর্তমানে ডিএমকে-র দখলে। সরাসরি শাসক দলের ঘাঁটিতে হানা দিয়ে বিজয় মূলত মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনকে এক বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। কেবল নিজে লড়া নয়, স্ট্যালিনের বিরুদ্ধেও হেভিওয়েট প্রার্থী দিয়েছে বিজয়ের দল। কোলাথুর আসনে স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে লড়বেন ভিএস বাবু এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী উদয়নিধি স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে চিপাউক আসনে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সেলভামকে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জনগণের জোট’
বিজয় তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতাসীন ডিএমকে-র কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তাঁর দলের প্রার্থীরা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি এবং তাঁদের গায়ে দুর্নীতির কোনো দাগ নেই। তিনি এই নির্বাচনকে মূলত তাঁর ‘জনগণের জোট’ বনাম এমকে স্ট্যালিনের জোটের এক দ্বিমুখী লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেন।
নিজের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে বিজয় বেশ কিছু জনমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে: মাদকমুক্ত তামিলনাড়ু: রাজ্যকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকার। বেকার ভাতা: ২৯ বছর পার হওয়া বেকারদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা। স্বচ্ছ নিয়োগ: সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে নতুন আইন প্রণয়ন।
রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়
তামিলনাড়ুর রাজনীতি বরাবরই রুপালি পর্দার তারকাদের দ্বারা প্রভাবিত। এমজিআর থেকে জয়ললিতা কিংবা করুণানিধি—সবাই চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিজয়ের এই অভিষেক রাজ্যটির রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দলের সাধারণ সম্পাদক আধভ অর্জুন ভিলিভাক্কাম থেকে এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ সেঙ্গোত্তাইয়ান গোবিচেটিপালায়ম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সব মিলিয়ে বিজয়ের এই ‘হুইসেল বিপ্লব’ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। দক্ষিণ ভারতের রাজনীতির এই নতুন ও আকর্ষণীয় মোড় কেবল তামিলনাড়ু নয়, পুরো ভারতের রাজনৈতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

