মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সামরিক পরিস্থিতির মাঝেই কাতারের জলসীমা থেকে এক মর্মান্তিক দুঃসংবাদ এলো। রুটিন মিশনে থাকা অবস্থায় কাতারি সশস্ত্র বাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরের দিকে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করেছে। সাগরে আছড়ে পড়া বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি থেকে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত ওই কপ্টারটিতে মোট সাতজন আরোহী ছিলেন। ছয়জনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হলেও এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ওই সেনাসদস্যকে খুঁজে বের করতে কাতারের নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল পারস্য উপসাগরের নির্দিষ্ট জলসীমায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
প্রাথমিক তদন্তের পর দোহার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ নয় বরং যান্ত্রিক ত্রুটির (Technical failure) কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। হেলিকপ্টারটি যখন বিধ্বস্ত হয়, তখন সেটি একটি নিয়মিত বা ‘রুটিন’ মহড়ায় অংশ নিচ্ছিল। তবে ঠিক কী ধরনের কারিগরি গোলযোগের কারণে কপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সাগরে পড়ে গেল, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে কাতারের আকাশ ও জলসীমায় সামরিক টহল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই বাড়তি চাপের মুখে যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণে কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে তারা সবাই কাতারি সামরিক বাহিনীর সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রকম্পিত। যদিও কাতার এই সংঘাতের বাইরে থেকে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে, তবুও তাদের সামরিক সরঞ্জামের এই ক্ষয়ক্ষতি বাহিনীকে মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত করে তুলেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো আশা করছে, নিখোঁজ ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে পাওয়া যাবে, যদিও সাগরের ঢেউ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কাতার সরকার এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নিহতদের পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে এমন প্রাণহানি আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পরিচালনার ঝুঁকিগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার আগে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কাতারি প্রতিরক্ষা দপ্তর।

