পশ্চিমা বিশ্বের অব্যাহত চাপ আর যুদ্ধের দামামার মধ্যেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, বহিঃশক্তির কোনো ধরনের জবরদস্তি বা হুমকির মুখে ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার বার্তায় স্পষ্ট করেন যে, ইরান ঐতিহাসিকভাবে কোনো যুদ্ধের সূচনা করেনি। তবে শত্রু পক্ষ যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তবে নিজের সার্বভৌমত্ব ও আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে তেহরান যে কতটা পারদর্শী, তা বিশ্ববাসী বারবার দেখেছে।
ম্যাক্রোঁকে কড়া বার্তা: “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেন নীরব?”
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে সাম্প্রতিক এক ফোনালাপের প্রসঙ্গ টেনে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, বরং এটি একটি ‘বর্বর আগ্রাসন’। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই নগ্ন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিশ্বনেতাদের সোচ্চার হতে হবে। অপরাধীদের আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করা না হলে মধ্যপ্রাচ্যে কখনোই স্থায়ী শান্তি ফিরবে না।
মার্কিন ঘাঁটির ব্যবহার নিয়ে হুঁশিয়ারি
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, “আমাদের সুসম্পর্ক নষ্ট করার জন্যই এই অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।” তার মতে, জায়নবাদী-মার্কিন জোটের এই সম্প্রসারণবাদী মানসিকতা একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে একটি ‘মধ্যযুগীয় বর্বরতা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।
যুদ্ধের নেপথ্যে ও বর্তমান বাস্তবতা
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অতর্কিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই যুদ্ধের সূত্রপাত। এর প্রতিশোধ হিসেবে ইরানও ইসরায়েল অধিকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল হামলা অব্যাহত রেখেছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পুনরায় স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের মাটিতে আর কোনো হামলা হবে না— এমন লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো আলাপ তেহরানের কাছে অর্থহীন। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান তার অনড় অবস্থানে অটল থাকবে এবং প্রয়োজনে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
মস্কোতে যখন নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির চিকিৎসা চলছে, তখন তেহরান থেকে পেজেশকিয়ানের এই কঠোর বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান দীর্ঘমেয়াদী লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

