বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের সূচনা হলো। ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুর রহমানকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময় পর জাতীয় সংসদে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তির নিয়মতান্ত্রিক বিরোধী দল হিসেবে পথচলা শুরু হলো।
গত ১২ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত একটি সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে। সংসদ সচিবালয়ের জারি করা গেজেট অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি এবং ‘বিরোধীদলীয় নেতা ও উপনেতা (পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা) আইন, ২০২১’ এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ড. শফিকুর রহমান এখন থেকে সংসদে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা ও বিকল্প নীতি প্রস্তাবের প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
একই গেজেটে কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরকেও গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। একই আইনের অধীনে তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলের উপনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। অভিজ্ঞ এই দুই পার্লামেন্টারিয়ানের নেতৃত্বে সংসদে বিরোধী দল তাদের সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, সরকারি দলের বাইরে সংসদে যে দল বা জোটের সদস্য সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে, তাদের মধ্য থেকেই বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকারের বিরোধিতাকারী দলগুলোর মধ্যে ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন দল বা জোটের সদস্য সংখ্যা সর্বাধিক হওয়ায় স্পিকার আইনগতভাবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে সংসদে ক্ষমতার ভারসাম্য এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
ড. শফিকুর রহমান এবং সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের এই নতুন দায়িত্ব প্রাপ্তি সংসদের কার্যকলাপে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাজেট অধিবেশন, গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস এবং সংবিধান সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে বিরোধী দলের ভূমিকা এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। গেজেট প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তাদের অভিনন্দন জানানো হচ্ছে।
নবনিযুক্ত বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ড. শফিকুর রহমান ইতোমধ্যে তার সংসদীয় দলের সদস্যদের নিয়ে কার্যপরিকল্পনা শুরু করেছেন। জনগণের অধিকার রক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে তারা সোচ্চার থাকবেন বলে আভাস দিয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকারের এই সময়োপযোগী স্বীকৃতি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

