সবশেষ গত বছরের অক্টোবরে ওয়ানডে ফরম্যাটে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। মাঝের এই লম্বা বিরতি কাটিয়ে অবশেষে রঙিন পোশাকে ফিরছে টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ দিয়েই শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যস্ততম এক ওয়ানডে ক্যালেন্ডার। চলতি বছর সব মিলিয়ে ২২টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা, যা ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণের এক বিশাল সুযোগ বলে মনে করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিরাজ তাঁর রোমাঞ্চের কথা জানান। তিনি বলেন, “এই বছর আমাদের সামনে ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ আছে। এটি প্রত্যেক খেলোয়াড়ের জন্য এক অনন্য সুযোগ। টানা ওয়ানডে খেলার মাধ্যমে আমরা আমাদের ছন্দ ফিরে পেতে পারি। দলের সেরা কম্বিনেশন তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য, কারণ দিনশেষে ফলাফলটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
দলের ব্যাটিং অর্ডার এবং কৌশল নিয়ে মিরাজ স্পষ্ট করে বলেন যে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের প্রয়োজনকে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। খেলোয়াড়দের প্রতি তাঁর বার্তা ছিল সরাসরি—চ্যালেঞ্জ নিতে হবে এবং অবদান রাখতে হবে। যারা ফর্মে আছেন, তারা যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তবেই দল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের গুরুত্ব তুলে ধরে এই অলরাউন্ডার জানান, তারা দীর্ঘমেয়াদী চিন্তার চেয়ে প্রতিটি ম্যাচ এবং সিরিজ ধরে এগোতে চান। মিরাজের ভাষায়, “আমরা গত সিরিজটি জিতেছি এবং আগামীকাল থেকে যে নতুন মিশন শুরু হচ্ছে, সেটি আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা খুব বেশি দূরের কথা ভাবছি না; প্রতিটি ম্যাচ বাই ম্যাচ পরিকল্পনা করছি।”
এক সময় ওয়ানডে ফরম্যাট ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গা। সেই সোনালী সময় এবং জয়ের সেই পুরনো প্যাটার্ন ফিরিয়ে আনতে মরিয়া দলটি। সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকায় এখন থেকেই শক্তিশালী ভিত্তি গড়ার পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। মিরাজ মনে করিয়ে দিলেন, অতীতে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের সাফল্যের হার ছিল ঈর্ষণীয় এবং সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই তারা নতুন করে শুরু করতে চান।
মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলের ভেতরকার সুস্থ প্রতিযোগিতা এবং তরুণদের দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারে বলে বিশ্বাস ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের। ২২ ম্যাচের এই দীর্ঘ পথচলা কেবল ব্যক্তিগত রেকর্ডের জন্য নয়, বরং বিশ্বকাপের আগে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠনের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন মিরাজ ও তাঁর সতীর্থরা।

