ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার সুগভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটি। সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এই দাবি করেন।
জাবের অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দল এবং নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী হাদি হত্যার দায়ভার তার সহযোদ্ধাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি একে ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিজম’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, সহযোদ্ধাদের খুনি সাজিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।
সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জাবের বলেন, “যারা এই মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে, তারা আপনাদেরই কর্মী বা সমর্থক। প্রশাসন যদি এখনই এই অপপ্রচার বন্ধে পদক্ষেপ না নেয়, তবে আমরা ধরে নেব এই ষড়যন্ত্রে সরকারেরও প্রচ্ছন্ন মদদ রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা স্পষ্ট করেন যে, হাদি হত্যাকাণ্ড কেবল একজনের ট্রিগার টেপার বিষয় নয়। এর পেছনে একটি শক্তিশালী অশুভ চক্র সক্রিয় রয়েছে। জাবের আক্ষেপ করে বলেন, “শুটারকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও, এই হত্যার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা আমরা দেখছি না।”
ভারতে হাদি হত্যার সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গে জাবের বলেন, “অনেকে প্রশ্ন তুলছেন আমরা ভারত সরকারকে কেন ধন্যবাদ দিচ্ছি না। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার—আমরা কারো কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার এবং শহীদের রক্তের হিসাব বুঝে নিতে এসেছি। দ্রুত খুনিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময়ের কিছু বিতর্কিত মন্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে। অভিযোগ করা হয়, একটি গোষ্ঠী তখন এই মর্মান্তিক ঘটনাকে ‘ফুটেজ কামানোর কৌশল’ বলে উপহাস করেছিল, যা অত্যন্ত অমানবিক।
সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জাবের দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আপনারা যদি ভেবে থাকেন হাদি বা জাবেরকে থামিয়ে দিলে ইনকিলাব মঞ্চ থমকে যাবে, তবে ভুল ভাবছেন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমাদের আপস করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রাণ আছে, আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।”
শাহবাগের এই সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো নাটক বা কালক্ষেপণ করা হলে তারা রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

