বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান নির্বাচক প্যানেলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি ফেব্রুয়ারিতেই। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে তিনি আর এই দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। লিপুর এই আকস্মিক সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তে বিসিবি এখন নতুন কাউকে খুঁজছে, আর সেই তালিকায় সবার ওপরে নাম এসেছে সাবেক সফল অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের।
বিসিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে, লিপু ইতিমধ্যে বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি আর দায়িত্বে থাকছেন না। গত ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ইমেইলের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। যদিও বিসিবি নীতিনির্ধারকরা তাকে আরও দীর্ঘ মেয়াদে রাখার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি তা বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বাশারের কাঁধেই কি উঠছে দায়িত্ব?
গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর উত্তরসূরি হিসেবে হাবিবুল বাশার সুমনকেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করছে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগ। ইতিমধ্যে বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে প্রধান নির্বাচক হওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ইন-চার্জ হিসেবে কাজ করছেন।
২০১৬ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নির্বাচক হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে বাশারের। যদিও তিনি বোর্ড থেকে সরাসরি প্রস্তাব পেয়েছেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিসিবির ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা জানান, “এই মুহূর্তে বাশারের চেয়ে যোগ্য বিকল্প আমাদের হাতে নেই। তিনি দেশের ক্রিকেট কাঠামো ও পাইপলাইনের খেলোয়াড়দের সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা রাখেন। আমরা আশাবাদী তিনি দায়িত্বটি গ্রহণ করবেন।”
লিপুর দুই বছরের মূল্যায়ন
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিনহাজুল আবেদিন নান্নুর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তার দুই বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ দল দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছে। লিপুর অধীনে নির্বাচক প্যানেলে স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব আনার চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো।
লিপু তার সিদ্ধান্তের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, “২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হয়তো বিশেষ বিবেচনায় কাজ করা যেত, কিন্তু ২০২৭ থেকে আমার ব্যক্তিগত কিছু বড় প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাই আমি মনে করি এখনই নতুন কারো দায়িত্ব নেওয়ার সঠিক সময়। ২৮ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ করেই আমি বিদায় নিতে প্রস্তুত।”
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
হাবিবুল বাশার যদি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন, তবে ১ মার্চ থেকে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে তার নতুন ইনিংস শুরু হবে। ক্রিকেটের এই পালাবদলের সময়ে একজন অভিজ্ঞ সাবেক ক্রিকেটারকে নেতৃত্বে আনা হলে তা দলের স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে, বিসিবির বর্তমান বোর্ড সংস্কার এবং নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নানামুখী তৎপরতার মধ্যে প্রধান নির্বাচক পদের এই পরিবর্তন দেশের ক্রিকেটে নতুন মোড় নিতে পারে। এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা কেবল বাশারের গ্রিন সিগন্যালের।

