ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন ইতিবাচক ধারা ও সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনের প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাঁদের বাসায় যাচ্ছেন তিনি।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার নিশ্চিত করেছেন যে, তারেক রহমান রোববার সন্ধ্যা ৭টায় প্রথমে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে যাবেন। সেখানে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে রাত ৮টার দিকে তিনি বাড্ডায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় পৌঁছাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই উদ্যোগকে ‘মাইলফলক’ হিসেবে অভিহিত করছেন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর জয়ী দলের প্রধানের এভাবে পরাজিত বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বাসায় যাওয়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিরল। বিএনপি সূত্র বলছে, তারেক রহমান কেবল তাঁর দলের বিজয় উদযাপন নয়, বরং ‘জাতীয় ঐক্য’ এবং ‘প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি’ প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করেছেন, এটি তারই বাস্তব প্রতিফলন।
তারেক রহমান শনিবারের সংবাদ সম্মেলনেও বলেছিলেন, “আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক।” ডা. শফিকুর রহমান (ঢাকা-১৫) এবং নাহিদ ইসলাম (ঢাকা-১১)—উভয়ই নিজ নিজ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ মূলত আগামী দিনের সংসদীয় কার্যক্রমে একে অপরের সহযোগিতা কামনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের কাজে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার একটি প্রয়াস।
এনসিপির পক্ষ থেকে এই সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। দলটির এক দায়িত্বশীল নেতা জানান, নির্বাচনের মাঠে প্রতিযোগিতা থাকলেও দেশ গঠনের প্রশ্নে তাঁরা যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানাবেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীও এই সৌজন্য সাক্ষাৎকে স্বাগত জানিয়েছে।
তারেক রহমানের এই সফরের সময় তাঁর সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সিনিয়র নেতাও থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ভোটের মাঠের ‘উত্তাপ’ কমিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির পথ সুগম হবে বলে আশা করছেন সাধারণ ভোটাররা।

