বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আবহে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্ব ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’ ও ‘ডব্লিউআইওএন’ (WION) শনিবার তাদের প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার স্বার্থে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো তাঁদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।”
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পরপরই শুক্রবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টেলিফোনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, “তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে আমি আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে এই অসাধারণ জয়ের জন্য আমি তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী দেশের জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিএনপি দলীয় সূত্রগুলো বলছে, কেবল ভারত নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সব কটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি চলছে। ঢাকার এই অনুষ্ঠানকে একটি বড় ধরণের কূটনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত করতে চায় নবনির্বাচিত দলটির নেতৃত্ব। যদি নরেন্দ্র মোদি এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং ঢাকা সফরে আসেন, তবে এটি হবে ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও ইতিবাচক মোড়।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দুই দেশের সম্পর্কে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল, তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সেই দূরত্ব কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে। হুমায়ুন কবিরের ভাষায়, “কাউকে আমন্ত্রণ জানানো মানেই একটি সৌহার্দ্যের বার্তা পাঠানো। আমরা আশা করি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণে সাড়া দেবেন এবং দুই দেশের মধ্যে সদিচ্ছার নতুন প্রতিফলন ঘটবে।”
যদিও শপথ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে আগামী সোম বা মঙ্গলবার (১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি) এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে পারে। আপাতত নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে দলটি। তারেক রহমান ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর সরকারের পররাষ্ট্রনীতি হবে ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই হবে সব সম্পর্কের মূল ভিত্তি।
এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর বঙ্গভবনের দিকে—কে কে উপস্থিত থাকছেন এই মেগা ইভেন্টে? বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি দক্ষিণ এশীয় রাজনীতিতে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

