ঢাকা-৮ আসনের হেভিওয়েট প্রার্থী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করলেও নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ‘মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলেও ফলাফলে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি বরদাশত করা হবে না।
সকাল থেকেই ঢাকা-৮ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। মির্জা আব্বাস তার নিজের নামাঙ্কিত কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বলেন, “জনগণ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে। এই অধিকার রক্ষা করা নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পবিত্র দায়িত্ব। আমরা চাই মানুষ নির্ভয়ে তাদের রায় দিক এবং সেই রায়ের সঠিক প্রতিফলন ঘটুক।”
নির্বাচন কমিশনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা বলেন, “এখন পর্যন্ত ভোট শান্তিপূর্ণ হচ্ছে, বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমাদের চোখে পড়েনি। তবে পর্দার আড়ালে কোনো ধরনের কারিগরি বা ফলাফলের হেরফের করার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা রাজপথে প্রতিহত করবে। আমরা চাই একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”
এদিন নির্বাচনি ময়দানে মির্জা আব্বাসের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এক অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি কৌশলী উত্তর দেন। নাসীরুদ্দীনের অভিযোগ ছিল—বেশ কিছু কেন্দ্রে তার এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, “এমন কোনো ঘটনার খবর আমার কাছে নেই। আমার লক্ষ্য কেবল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করা।”
ঢাকা-৮ আসনটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হওয়ায় এখানে সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি ও সেনাসদস্যদের টহল এই এলাকার ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। মির্জা আব্বাস মনে করেন, যদি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই পরিবেশ বজায় থাকে, তবে তার দল বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।
তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি কেন্দ্রে সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। কোনো উসকানির মুখে মেজাজ না হারিয়ে আইনি ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের ফলাফল বুঝে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই প্রথম একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মির্জা আব্বাস। এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েই তিনি এবারের নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। এখন বিকেলের ফলাফল তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

