মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মাঝেই আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই তাদের মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরান। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতা রোধের পাশাপাশি তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পকে কঠোর হওয়ার চাপ দেবেন নেতানিয়াহু। মূলত ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করাই হবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার আগে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু সাংবাদিকদের বলেন, “আমি প্রেসিডেন্টের কাছে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি এবং উদ্বেগের জায়গাগুলো তুলে ধরব।” তার এই সফরটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই কোনো বিদেশি নেতার ষষ্ঠবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর, যা অন্য যে কারো চেয়ে বেশি।
এদিকে ইরান তাদের অবস্থানে অটল থাকার বার্তা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা নমনীয় হতে রাজি থাকলেও তাদের মিসাইল প্রযুক্তি বা আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা বন্ধের শর্ত কোনোভাবেই মানবে না। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই বৈঠকের আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন যে, তার দেশ ‘বাড়াবাড়ি রকমের কোনো শর্তে’ সায় দেবে না।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরপরই নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সেরেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আজকের মূল বৈঠকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার নয়, বরং অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি আর নেতানিয়াহুর ‘আগ্রাসী প্রতিরক্ষা’ কৌশল এক বিন্দুতে মিললে ইরান সংকটের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

