বাংলাদেশের শুটিং অঙ্গন এখন যেন এক রণক্ষেত্র। একের পর এক বহিষ্কার আর নিষেধাজ্ঞার খড়গ নেমে আসছে শ্যুটারদের ওপর। দেশের অন্যতম সেরা নারী শ্যুটার কামরুন নাহার কলিকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে শুটিং ফেডারেশন। কেবল কলিই নন, ফেডারেশনের রোষানলে পড়েছেন আরও তিন শ্যুটার— এমা, আহাদ ও পিয়াস। তাদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছে সাময়িক বহিষ্কারের চিঠি।
এই পরিস্থিতির আঁচ লেগেছে সাবেক তারকাদের গায়েও। বাংলাদেশের শুটিংয়ের দুই কিংবদন্তি, সাবরিনা সুলতানা এবং শারমিন আক্তার রত্নাকে শুটিং কমপ্লেক্সে একপ্রকার ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই শাস্তির মুখে পড়া প্রত্যেকেরই একটি সাধারণ পরিচয় আছে— তারা সবাই ফেডারেশনের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক জিএম হায়দার সাজ্জাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন এবং গণমাধ্যমে মুখ খুলেছিলেন।
শুটিংয়ের ‘স্বর্ণকন্যা’ হিসেবে পরিচিত সাবরিনা সুলতানা, যিনি দেশের হয়ে অসংখ্য পদক জিতেছেন, আজ নিজ অঙ্গনেই নিষিদ্ধ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তিনি। সাবরিনা বলেন, “এই কমিটির কোনো নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা নেই। সাধারণ সম্পাদক আলেয়া ফেরদৌসী এখনও সাবেক সেই বিতর্কিত কর্মকর্তার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কাজ করছেন। এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্তগুলো তারই প্রমাণ।”
অন্যদিকে, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম সাহসী ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর শারমিন আক্তার রত্না এবার আর আপসের পথে নেই। তিনি সরাসরি সাধারণ সম্পাদকের অপসারণ দাবি করেছেন। রত্নার মতে, সাধারণ সম্পাদক একের পর এক বিতর্কিত কাজ করে নিজের পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ফেডারেশনকে বাঁচাতে হলে নেতৃত্বের আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৫ জানুয়ারি রত্না ও সাবরিনারা নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপেশাদার আচরণ করেছেন। এমনকি তদন্তের কাজে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনেও নাকি তারা ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। তবে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন রত্না।
পাল্টা যুক্তি দিয়ে রত্না বলেন, “আমরা সাবেক শ্যুটার হিসেবে কেবল সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনার প্রয়োজনই মনে করেননি। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, যেদিনের ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেদিন শ্যুটার পিয়াস সেখানে উপস্থিতই ছিলেন না। অথচ তাকেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।”
বর্তমানে রত্না ও সাবরিনা যেহেতু সরাসরি শুটিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাই ফেডারেশন তাদের ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করার কৌশল নিয়েছে। সাবেক যুগ্ম সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন রত্না। সেই মামলার তদন্তে পুলিশ ডাকলে কেবল তখনই তিনি ফেডারেশনে প্রবেশ করতে পারবেন— এমন কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
শাস্তি পাওয়া বর্তমান শ্যুটারদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তিন কর্মদিবসের সময় দেওয়া হয়েছে। এদিকে কামরুন নাহার কলির হয়ে প্রতিবাদ করায় তার স্বামী, পিস্তল শ্যুটার আহাদকেও দেওয়া হয়েছে বহিষ্কারের চিঠি। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত রেষারেষি আর ক্ষমতার লড়াই এখন শুটিংয়ের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই অস্থিরতা চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শুটিংয়ের গৌরব ধূলায় মিশে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।

