২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) পবিত্র হজ পালনেচ্ছুকদের জন্য বড় সুখবর দিলো সৌদি আরব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হজের ভিসা ইস্যু করার প্রক্রিয়া শুরু করছে দেশটি। শনিবার সৌদি হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাজিদের সৌদি আরবে আসার অনেক আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি গুছিয়ে ফেলার লক্ষ্যেই এই আগাম ভিসা ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত হজযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং শেষ মুহূর্তের তাড়াহুড়ো এড়াতেই কয়েক মাস আগে থেকেই প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে চায় রিয়াদ। এটি দেশটির ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল ও সহজতর করার একটি বড় পদক্ষেপ।
২০২৬ সালের হজের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হয়েছিল মূলত ২০২৫ সালের ৮ জুন থেকে। সেই দিন থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে প্রাথমিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠাতে শুরু করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এরপর কয়েক ধাপে আবাসন, পরিবহন এবং পবিত্র স্থানগুলোতে তাঁবু শিবিরের চুক্তিগুলো সম্পন্ন করা হয়। এবার সেই পরিকল্পনারই চূড়ান্ত বাস্তবায়নের পালা।
সৌদি আরবের হজ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আবাসন ও মূল সেবাগুলোর চুক্তি সম্পন্ন করার কাজ শুরু হয়েছিল গত বছরের অক্টোবর মাসেই। এরপর জুমাদাল আউয়াল মাসে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বড় বড় সেবা চুক্তিগুলো স্বাক্ষরিত হয়। জানুয়ারি মাসের মধ্যেই মক্কা ও মদিনার আবাসন এবং পবিত্র স্থানগুলোর যাতায়াত ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। কাল থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হওয়ার পর আগামী মার্চ মাসের মধ্যে সব দেশের হজযাত্রীদের তথ্য চূড়ান্ত করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল (১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) থেকে প্রথম দফার হাজিরা সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করবেন। এবারও হজযাত্রীদের সব ধরণের তথ্য এবং সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে ‘নুসুক মাসার’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে। এই সিস্টেমটি ব্যবহারের ফলে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা এসেছে এবং বুকিংয়ের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা অনেকাংশেই কমে গেছে।
এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজের জন্য প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার হাজি সরাসরি নিজ নিজ দেশের মাধ্যমে প্যাকেজ বুক করেছেন। আন্তর্জাতিক হজযাত্রীদের জন্য মিনা ও আরাফাতে প্রায় ৪৮৫টি বড় তাঁবুশিবির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৭৩টি জাতীয় হজ দপ্তর ইতিমধ্যে তাদের প্রাথমিক চুক্তিগত কাজ শেষ করেছে।
সৌদি মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে যে, হাজিদের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সব দেশের হজ মিশন ও সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন এবং নুসুক প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার কার্যক্রমকে আরও দ্রুততর করেছে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখ লাখ মানুষের এই মিলনমেলা যাতে নির্বিঘ্ন হয়, সেজন্য মক্কা ও মদিনার পবিত্র স্থানগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রোববারের এই ভিসা কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে বিশ্বের মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হজ যাত্রার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

