মার্কিন ধনকুবের ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের গোপন নথিতে সাবেক স্বামী বিল গেটসের নাম আসায় গভীর মর্মাহত ও বিচলিত বোধ করছেন মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। সম্প্রতি এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে এই বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি একে তার জীবনের অন্যতম ‘যন্ত্রণাদায়ক’ অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দীর্ঘ দাম্পত্য বিচ্ছেদের পর এই নতুন তথ্য মেলিন্ডার পুরনো ক্ষতকে আবারও সতেজ করে তুলেছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনপিআরের জনপ্রিয় সাংবাদিক র্যাচেল মার্টিনের একটি পডকাস্ট শো-তে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেলিন্ডা। সেখানে উপস্থাপক যখন এপস্টেইন ফাইলে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতার নাম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন মেলিন্ডার কণ্ঠে ফুটে ওঠে স্পষ্ট অস্বস্তি ও বিষণ্নতা। তিনি জানান, এই খবরটি পাওয়ার পর থেকেই তিনি এক কঠিন মানসিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
‘প্রশ্নটি আমাকে নয়, তাকে করুন’
মেলিন্ডা সরাসরি বিল গেটসের নাম উচ্চারণ না করলেও তার বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বলেন, “এই তথ্যগুলো জানার পর আমি খুবই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এটি আমাকে আমার বিবাহিত জীবনের সেই সব মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যা ছিল অত্যন্ত যন্ত্রণার।” তবে এই বিতর্কের গভীরে যেতে রাজি নন তিনি। মেলিন্ডা সাফ জানিয়ে দেন, “আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই না বা কোনো কৈফিয়ত দিতেও আগ্রহী নই। আমার মনে হয়, যাদের নাম এই নথিতে এসেছে, উত্তর দেওয়ার দায়বদ্ধতা তাদেরই; আমার নয়।”
উল্লেখ্য, বিল ও মেলিন্ডার ২০২১ সালের বিচ্ছেদের সময় একটি বড় কারণ হিসেবে জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের ঘনিষ্ঠতাকে দায়ী করা হয়েছিল। মেলিন্ডা আগেও জানিয়েছিলেন যে, তিনি এপস্টেইনের সাথে বিলের মেলামেশা পছন্দ করতেন না এবং একবার সেই অন্ধকার চরিত্রের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি ‘দুঃস্বপ্ন’ দেখেছিলেন।
কী আছে সেই ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে?
গত ৩০ জানুয়ারি মার্কিন আদালতের নির্দেশে জেফ্রি এপস্টেইনের অপরাধ জগতের প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। এই নথিতে উঠে এসেছে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন দ্বীপে ৭৫ একরের এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন এই বিনিয়োগকারী। সেখানে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, বিনোদন জগতের মহাতারকা এবং ভিআইপিদের আমন্ত্রণ জানানো হতো। অভিযোগ রয়েছে, সেই সব আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য মাদক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক নারীসহ সব ধরনের অনৈতিক বিনোদনের ব্যবস্থা থাকত।
প্রকাশিত ফাইল অনুযায়ী, বিল গেটস বেশ কয়েকবার সেই দ্বীপে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন। নথিতে দাবি করা হয়েছে, সেখানে তিনি রুশ মডেল ও উচ্চবিত্ত যৌনকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন। বিল গেটসের মতো একজন বিশ্বখ্যাত মানবহিতৈষী ব্যক্তিত্বের নাম এমন কলঙ্কিত তালিকায় আসায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিল গেটসের অবস্থান ও প্রতিবাদ
বিষয়টি নিয়ে বিল গেটস নিজে সরাসরি গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য না করলেও তার মুখপাত্রের মাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্ভট এবং ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করা হয়েছে। মুখপাত্রের মতে, এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের যোগাযোগ ছিল কেবলই জনহিতকর কাজের তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে, যা পরে গেটস নিজেই একটি ভুল হিসেবে স্বীকার করেছিলেন।
২০১৯ সালে কারাগারে জেফ্রি এপস্টেইনের রহস্যজনক মৃত্যুর পর থেকেই তার ‘ক্লায়েন্ট লিস্ট’ বা অতিথিদের তালিকা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। আদালতের নির্দেশে এই বিশাল ফাইল প্রকাশের পর এখন একে একে উন্মোচিত হচ্ছে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা অনেক রুই-কাতলার অন্ধকার দিক। মেলিন্ডার এই সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলে দিল।

