বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করার পর তাঁর সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। এর মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে এসএসএফ সদস্যরা হাসপাতালে বেগম জিয়ার জন্য ভিভিআইপি বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। এই দায়িত্ব গ্রহণের ফলে তাঁর চিকিৎসা চলাকালীন নিরাপত্তা আরও নিশ্ছিদ্র করা হলো।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্য ভিভিআইপি বিশেষ নিরাপত্তা নিয়োজিত এসএসএফ সদস্যরা দুপুর ২টা ২০ মিনিট থেকে হাসপাতালে এসে তাঁদের ডিউটি শুরু করেছেন।”
এর আগে, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’য় অনুষ্ঠিত এক জরুরি ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ এ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করেন।
ড. মাহমুদ জানান, সেদিন (২ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয় এবং সমগ্র জাতির কাছে তাঁর জন্য দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, উপদেষ্টা পরিষদ সভায় বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাঁকে রাষ্ট্রের ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো:
হাসপাতালে তাঁর নির্বিঘ্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করা। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা প্রণয়ন। তাঁর নিরাপত্তা ও যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের একজন সাবেক সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর উচ্চ মর্যাদা বজায় রাখা।
উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকরের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে। এসএসএফ-এর দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সেই নির্দেশনা কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
এসএসএফ হলো বাংলাদেশের একটি অভিজাত নিরাপত্তা বাহিনী, যা রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিভিআইপি) ব্যক্তিগত ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় এসএসএফ-এর নিয়োগ তাঁর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বকে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভিভিআইপি মর্যাদা প্রদান একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ, যা রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক ও সম্মানজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এই উদ্যোগটি বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মনোযোগের ইঙ্গিত বহন করে। অন্যদিকে, তাঁর দল বিএনপি এবং সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং আশা করছেন যে এই বিশেষ নিরাপত্তার ফলে তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে।
এই মর্যাদা প্রাপ্তির ফলে এখন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা এসএসএফ আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। এর মধ্যে থাকবে কঠোর শারীরিক নিরাপত্তা, যাতায়াত নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত স্থানে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি।

