ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধে ভীত নয়। তবে ইরান সরকার সেই সব মহলের ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন, যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরানকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আরাগচি তার দেশের এই কঠোর অবস্থান ও কূটনৈতিক কৌশলের কথা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকারের মূল বিষয়সমূহ: ১. যুদ্ধের চেয়ে ভুল তথ্য নিয়ে উদ্বেগ বেশি আরাগচি বলেন, “আমি যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন নই, বরং আমার উদ্বেগ হলো ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করার প্রবণতা। কিছু নির্দিষ্ট মহল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যুদ্ধের দিকে প্ররোচিত করছে। তবে আমার বিশ্বাস, ট্রাম্প অন্যের কথায় প্রভাবিত না হয়ে নিজে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।”
২. আস্থার সংকট ও নতুন সমঝোতার সুযোগ সংলাপ প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি বলেন যে, পূর্বের চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রস্থানের ফলে ইরান ওয়াশিংটনের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। বর্তমানে কিছু মিত্র দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘নো নিউক্লিয়ার উইপন’ নীতির সঙ্গে ইরান পুরোপুরি একমত। ইরান কখনোই পরমাণু অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করবে না। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
৩. আঞ্চলিক মহাবিপর্যয়ের সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তবে তা আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন আরাগচি। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ছড়িয়ে আছে। ফলে যুদ্ধ শুরু হলে পুরো অঞ্চল এই ধ্বংসলীলায় জড়িয়ে পড়বে, যা হবে এক মহাবিপর্যয়।”
৪. অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও বন্দি মুক্তি সাক্ষাৎকারে ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পের উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে আসে। আরাগচি এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, আটক ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো বিচারবহির্ভূত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

