দীর্ঘ কয়েক মাস নিরব থাকার পর অবশেষে বিমানবন্দর থেকে নাটকীয় গ্রেপ্তার ও কারাবাসের সেই দুঃসহ স্মৃতির কথা প্রকাশ্যে আনলেন ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে তিনি জানান, জেলে কাটানো মাত্র ৪৮ ঘণ্টা তার জীবনের দীর্ঘদিনের চেনা মানুষদের মুখোশ খুলে দিয়েছে।
বিমানবন্দরের সেই নাটকীয় মুহূর্ত
নুসরাত ফারিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে—এমন খবর তিনি আগে শুনলেও বিষয়টিকে শুরুতে গুরুত্ব দেননি। গানের শুটিংয়ের জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশনে তাকে আটকে দেওয়া হয়। ফারিয়ার ভাষায়, “ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীটা থমকে গিয়েছিল।”
জেলখানায় ভালোবাসা ও সহমর্মিতা
কারাগারের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফারিয়া জানান, সেখানে তিনি অভাবনীয় ভালোবাসা ও সম্মান পেয়েছেন। তিনি বলেন, “জেলের ভেতরে জেলার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই আমাকে যে সহমর্মিতা দিয়েছেন, আমি সত্যিই ধন্য। ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছুই খাইনি, হজম করতে পারছিলাম না। কিন্তু অপরিচিত কিছু মানুষ আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিয়েছে, সকালে রুটি আর মিষ্টি কুমড়া ছিঁড়ে খাইয়ে দিয়েছে। আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল আর তারা পরম মমতায় আমাকে খাওয়াচ্ছিল।”
চেনা মানুষের ‘অচেনা’ রূপ
কারাগার থেকে বের হওয়ার পর ফারিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের আচরণ। তিনি জানান, বিপদে পড়ার পর তার ‘সবচেয়ে কাছের’ বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবিগুলো সরিয়ে ফেলেন এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। ফারিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে উজাড় করে দিয়েছি, তাদের অস্তিত্ব আজ নতুন করে চিনেছি। এই ৪৮ ঘণ্টা আমাকে শিখিয়েছে কে আমার আপন আর কে নয়। আজ তারা ফিরতে চাইলেও আমার পক্ষে তাদের গ্রহণ করা আর সম্ভব নয়।”
প্রেক্ষাপট: বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন মামলা
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’র অভিযোগে ভাটারা থানায় করা একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল। মামলার নথিতে তাকে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
তবে কারাবাস শেষে ফারিয়া জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের চোখে তিনি যে দোয়া এবং ভালোবাসার দৃষ্টি দেখেছেন, সেটিই তার আগামীর পথচলার শক্তি।

