দুর্নীতিবাজ ও ঋণখেলাপি মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনে কেউ যদি টাকা দিয়ে ভোট কিনতে আসে, তবে তাকে ধরে সরাসরি আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতীতে ভোট চুরির যে সংস্কৃতি ছিল, তা এবার আর চলতে দেওয়া হবে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আগে একটি স্লোগান ছিল— ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমার ভোটও আমি দেব’। কিন্তু এবার এই অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যারা ভোট ডাকাতি বা অন্যের ভোট দিতে আসবে, তাদের হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব না হলে আজকের এই ২০২৬-এর নির্বাচনী পরিবেশ পাওয়া যেত না। যারা এই বিপ্লবকে অস্বীকার করে, তাদের আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা চাই একটি শোষণমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এদেশের তরুণ সমাজ জেগে উঠেছে, যার প্রমাণ আমরা সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে (ডাকসু, চাকসু) দেখেছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনতার রায়ে বাংলাদেশ তার সঠিক পথ খুঁজে পাবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে পুরো জাতি মজলুম ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মাত্র ১৬ মাসের মাথায় একটি নির্দিষ্ট দল ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এসব চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেওয়ার জন্য তিনি নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। বিজয়ের আগ পর্যন্ত ঘরে না ফিরে মাঠে থেকে কাজ করার জন্য তিনি সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান এবং উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামানসহ জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। জনসভাকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক জনসমাগম ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

