দীর্ঘ নয় বছর পর অবশেষে আলোর মুখ দেখল বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলার মামলা। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ২০১৭ সালে সংঘটিত সেই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ২৬ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) জমা দিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ এই প্রতিবেদন দাখিল করে।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি আদালত এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার জন্য পুলিশকে কড়া তাগাদা দিয়েছিলেন। তদন্ত প্রতিবেদনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামসুজ্জোহা সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শিমুল গুপ্ত, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
প্রতিবেদনে অভিযুক্ত অন্য ২১ জন হলেন—মো. সরওয়ার, নাজিমুদ্দিন, রাসেল, মহসীন, জাহেদ, আলমগীর, নঈমুল ইসলাম, পাভেল বড়ুয়া, মো. জাহেদ, ইকবাল হোসেন, নাহিম, এনামুল হক, সাইফুল, মাহাবুব, আনোয়ার, নেসার উল্লাহ, বেলাল, মুজাহিদ, বাপ্পা ও মো. হারুন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৮ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১১৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। সেই শোকসন্তপ্ত এলাকা পরিদর্শনে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাঙামাটির উদ্দেশে রওনা হয়। পথিমধ্যে রাঙ্গুনিয়ার ইছাখালী এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালায়। হামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম গুরুতর আহত হন।
ঘটনার পরপরই বিএনপি এই হামলার জন্য তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদকে দায়ী করেছিল। তবে হাছান মাহমুদ সে সময় অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, এটি বিএনপির ‘অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ফল’। ওই ঘটনায় ২০১৭ সালের ২১ জুন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য এনামুল হক বাদী হয়ে মামলা করেন। প্রথম দফায় পুলিশ জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে না পেরে প্রতিবেদন দিলেও বাদীর নারাজির প্রেক্ষিতে আদালত পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও সাবেক পিপি এনামুল হক বলেন, “পুলিশ দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে সঠিক অপরাধীদের শনাক্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালত এই প্রতিবেদন গ্রহণ করলে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করা হবে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর হলেও এই চার্জশিট দাখিল বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বড় পদক্ষেপ।

