নেপালের মুলাপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে থাই মেয়েদের দাপটের সাথে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে পরাজিত করে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল এখন মূল পর্বের টিকিট পাওয়ার একদম দ্বারপ্রান্তে। সমীকরণ বলছে, হাতে থাকা শেষ দুই ম্যাচের একটিতে জয় পেলেই সরাসরি বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এমনকি কোনো ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে এক পয়েন্ট এলেও কপাল খুলবে বাংলাদেশের।
বুধবার টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায় বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে মারুফা আক্তার ও রিতু মনিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে থাইল্যান্ডের ইনিংস ১২৬ রানেই থমকে যায়।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। ওপেনার দিলারা আক্তার ইনিংসের প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক খেয়ে সাজঘরে ফেরেন। দলীয় স্কোরে খুব বেশি অবদান রাখতে পারেননি শারমিন আক্তারও (১১)। তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে তৃতীয় উইকেট জুটিতে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও শবানা মোস্তারি। এই দুই ব্যাটার ১১০ রানের এক অনবদ্য জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন।
দুজনেই দেখা পেয়েছেন ঝকঝকে হাফ-সেঞ্চুরির। জুয়াইরিয়া ৪৩ বলে ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৬ রান করে আউট হন। অন্যদিকে শবানা ছিলেন আরও বেশি আক্রমণাত্মক; ৪২ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে তিনি খেলেন ৫৯ রানের কার্যকর এক ইনিংস। শেষদিকে রিতু মনির ৬ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ক্যামিও ১৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি নিশ্চিত করে। যদিও অধিনায়ক জ্যোতি (৬) কিংবা স্বর্ণা আক্তাররা (৪) ব্যাটিংয়ে আজ খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।
১৬৬ রানের জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে থাইল্যান্ডের শুরুটা মন্দ ছিল না। ওপেনার নাথাকান চান্থাম একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন। এছাড়া নারুয়েমোল চাইহাই (৩০) ও নান্নাপাত কোনছারোয়েনকাই (২৯) জয়ের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু এই তিনজনের বাইরে থাইল্যান্ডের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। বাংলাদেশের বোলারদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রানেই তাদের ইনিংস শেষ হয়।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন পেসার মারুফা আক্তার। মাত্র ২২ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৩টি উইকেট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে রিতু মনি ও স্বর্ণা আক্তার প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নেন। ১টি উইকেট পকেটে পুরেন ফাহিমা খাতুন।
এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল টাইগ্রেসরা। এখন কেবল একটি জয় অথবা আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করা নিছক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বড় দলগুলোর বিপক্ষে মূল লড়াইয়ের আগে থাইল্যান্ডের মতো প্রতিপক্ষকে এভাবে হারানো নিগার সুলতানার দলের আত্মবিশ্বাস নিশ্চিতভাবেই বাড়িয়ে দেবে।

